
আলজাজিরা, বিবিসি, তুরস্ক টুডে ও এএফপি
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি আরবের মধ্যকার চলমান লড়াই মারাত্মক রূপ নেয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে। আমেরিকান ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ও সাবেক মার্কিন কূটনীতিক উইলিয়াম লরেন্সের মতে, সঙ্ঘাতটি কেবল আঞ্চলিক ভৌগোলিক সীমানায় আবদ্ধ নেই। এটি সরাসরি বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ওয়াশিংটনের কৌশলগত স্বার্থের সাথে যুক্ত হয়ে পড়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন শেষ পর্যন্ত এতে প্রত্যক্ষ সামরিক ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বিশ্লেষণে, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করা বাব আল-মানদেব প্রণালী এবং বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা বিঘিœত হলে বিশ্ব অর্থনীতি ও পণ্য পরিবহনে বড় আঘাত আসবে। রিয়াদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যেই কার্যকর ব্যবস্থার চাপ বাড়ছে। বর্তমানে সৌদি আরবে আনুমানিক ১০০ জন মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা নিয়োজিত রয়েছেন এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য ও আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা দিচ্ছে। ফলে ওয়াশিংটনের জন্য উপস্থিতি বাড়ানো সহজ হলেও সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া হবে ভিন্ন মাত্রার সিদ্ধান্ত, যা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সঙ্ঘাতকে আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে। এ দিকে ইয়েমেনের সানা শহর ও হুতি ঘাঁটিতে যৌথ বাহিনীর হামলার জবাবে রিয়াদ এবং লোহিত সাগর উপকূলের আরামকো তেল শোধনাগারে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুতিরা। গত পরশু শনিবার ভোরে রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে চালানো হামলা সফলভাবে আকাশেই ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি জোট। ওই ঘটনার পর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী ডিপোর একটি জ্বালানি ট্যাংকে আগুন ধরে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায় এবং বিমান চলাচলে সাময়িক বিঘœ ঘটে। সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া আল-সারিয়া এসব আক্রমণের দায় স্বীকার করেছেন। সার্বিক সঙ্ঘাত ও বোমাবর্ষণে দুই পক্ষে অন্তত ৪৮ জনের প্রাণহানি এবং এক লাখ চার হাজারেরও বেশি মানুষ গৃহহীন হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।
ধারাবাহিক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে রিয়াদের সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ঘাটতি দেখা দেয়ায় আঞ্চলিক মিত্রদের সহায়তা চাওয়া হচ্ছে। গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত ত্রিবিষয়ক ‘মাক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ বা মাক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় তুরস্ক ও পাকিস্তান রিয়াদকে নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছে। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র লে. জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানান, যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা জোটের সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে এবং রিয়াদের নিরাপত্তায় সব ধরনের সামরিক সহায়তা দিতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে স্থায়ী যৌথ কমান্ড না থাকায় সঙ্ঘাতের ময়দানে এই জোটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। অন্য দিকে ইয়েমেন যুদ্ধে সিরীয় সেনাদের সংগঠিত করে পাঠানোর সৌদি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে দামেস্ক। সিরীয় সরকারের মতে, তারা এই মুহূর্তে নিজস্ব সেনাবাহিনী পুনর্গঠনে ব্যস্ত এবং কোনো বিদেশী যুদ্ধে অংশ নিতে আগ্রহী নয়। পাশাপাশি আঙ্কারাও ইয়েমেনে সিরীয় যোদ্ধা পাঠানোর গুঞ্জন সম্পূর্ণ অসত্য বলে নাকচ করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নাগরিকদের চলাচলে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








