কুয়েটের রোকেয়া হলে তৃতীয় বর্ষেও গণরুমে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় সঙ্কট
কুয়েটের রোকেয়া হলে তৃতীয় বর্ষেও গণরুমে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় সঙ্কট।

কুয়েট প্রতিনিধি

Advertisement

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) নারী শিক্ষার্থীদের একমাত্র আবাসিক হল বেগম রোকেয়া হলে তীব্র আবাসন সঙ্কটে ভোগান্তিতে রয়েছেন শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ। পর্যাপ্ত আবাসিক কক্ষ না থাকায় তৃতীয় বর্ষে উঠেও অনেক শিক্ষার্থীকে গণরুমে থাকতে হচ্ছে। এমনকি আবাসিক কক্ষের সঙ্কট মেটাতে কমনরুম, টিভি রুম ও পুরনো রিডিং রুমকেও থাকার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আবাসন সঙ্কটের পাশাপাশি কক্ষে পড়ার টেবিলের স্বল্পতা, দুর্বল ওয়াই-ফাই, অপর্যাপ্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মশার উপদ্রব ও বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন তারা। এসব কারণে  হলের স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনা ও দৈনন্দিন জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে।
হলের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ‘রোকেয়া হলে পর্যাপ্ত আবাসিক কক্ষ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থীকে বড় পরিসরের গণরুমে থাকতে হচ্ছে। ফলে পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ পাচ্ছেন না অনেকে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘হলের আবাসন সঙ্কট এতটাই প্রকট যে টিভি রুম, কমনরুম ও নামাজের কক্ষও শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য ব্যবহার করতে হচ্ছে। 
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘নারী শিক্ষার্থীদের তুলনায় হলে থাকার জায়গা পর্যাপ্ত নয়। নতুন ছাত্রী হল নির্মাণের কাজও ধীরগতিতে চলছে। তার প্রশ্ন, ক্যাম্পাসে বিদেশী শিক্ষার্থী না থাকলেও ফরেন স্টুডেন্টস ডরমেটরির নির্মাণকাজ আগে শেষ করা হয়েছে, অথচ নারী শিক্ষার্থীদের আবাসন সঙ্কট এখনো কাটেনি।’
আবাসন সঙ্কটের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বেগম রোকেয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. রাজিয়া সুলতানা। তিনি বলেন, ‘হলটির অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সীমিত সুযোগের মধ্যেই যতটা সম্ভব শিক্ষার্থীদের আসন দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘কমনরুম, টিভি রুম ও পুরনো রিডিং রুমকেও শিক্ষার্থীদের থাকার উপযোগী করে প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে এসব কক্ষে থাকার ক্ষেত্রে পড়াশোনার পরিবেশে সমস্যা হতে পারে- সিট দেয়ার সময় শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।’
আবাসন সঙ্কটের স্থায়ী সমাধানে নতুন হল নির্মাণের কথাও জানান তিনি। অধ্যাপক ড. রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মাণাধীন ১০তলা নতুন আবাসিক হলটি আগামী বছরের জুন-জুলাইয়ের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন। নতুন হলটি চালু হলে রোকেয়া হলের বর্তমান সিট সঙ্কট অনেকটাই কমে আসবে।
শিক্ষার্থীদের মতে, ‘নতুন হল চালু না হওয়া পর্যন্ত আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন, পড়াশোনার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।’