
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
স্বাভাবিক আচরণে ফিরতে শুরু করেছে পুঁজিবাজার। গতকাল রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের দুই পুঁজিবাজারই সূচকের উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। এর আগে বিগত কয়েক সপ্তাহেই প্রথম কার্যদিবসে বড় পতন প্রত্যক্ষ করেছিলেন বিনিয়োগিকারীরা। তাই গতকাল মানসিকভাবে প্রচণ্ড চাপের মধ্যে ছিলেন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু লেনদেন শেষে চাপমুক্ত হলেন তারা। সূচকের উন্নতির পাশাপাশি গতকাল ঢাকা শেয়ারবাজারে লেনদেনেরও উন্নতি ঘটে।
রোববার ঢাকা শেয়ারবাজারে লেনদেনের শুরুতে মৃদু বিক্রয়চাপ সৃষ্টি হলেও তা কাটিয়ে ওঠে প্রথম ঘণ্টায় সূচকের উন্নতি রেকর্ড করা হয় ৫০ পয়েন্ট। বেলা ১টার পর আবারও মৃদু বিক্রয়চাপ তৈরি হয়। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেলে সাময়িক এ চাপ কাটিয়ে ওঠে বাজার। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাজার নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে যা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত বজায় ছিল। তবে সূচকের এ উন্নতির মধ্যেও বিনিয়োগকারীদের লেনদেনে সতর্ক থাকতে দেখা যায়। এতে লেনদেনের গতিও ছিল প্রত্যাশার চেয়ে কম।
বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বেশ কিছু দিন টানা পতনের পর বাজারঘুরে দাঁড়ালেও বাস্তবতার কারণে বিনিয়োগকারীরা এখনো বাজারকে পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত মনে করছেন না। তাই তারা বিনিয়োগে খুবই সতর্ক। তবে তারা মনে করেন, মন্দার কারণে বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশই সাইড লাইনে চলে গিয়েছিলেন যারা ফের বাজারমুখো হচ্ছেন। বাজারের স্বাভাবিক গতি ফিরলে আবার এসব বিনিয়োগকারীরা পুরোপুরি বিনিয়োগে ফিরতে পারেন।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ৬০ দশমিক ০৫ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। ৫ হাজার ৫৩২ দশমিক ১৪ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি রোববার লেনদেন শেষে পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৫৯২ দশমিক ২০ পয়েন্টে। একই সময় বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহর উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ২০ দশমিক ০২ ও ১ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট। অনুরূপভাবে দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই গতকাল ১১৯ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। সকালে ১৪ হাজার ৭৩৬ দশমিক ৩১ পয়েন্ট থেকে যাত্রা করা সূচকটি বিকালে লেনদেন শেষে ১৪ হাজার ৮৫৬ দশমিক ১৯ পয়েন্টে স্থির হয়। এ সময় বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ৪১ দশমিক ০৩ ও ৯২ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট।
গতকাল পুঁজিবাজার আচরণের উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ব্যাংকসহ বিভিন্ন খাতের ভালো ভালো কোম্পানির পাশাপাশি স্বল্প মূলধনের যেসব কোম্পানি সাম্প্রতিক দরপতনের সময় বেশি দর হারিয়েছিল এগুলো তাদের হারানো দরের একটি অংশ ফিরে পায়। এ ছাড়া মূল্যস্তরের দিক থেকে যেগুলো অপেক্ষকৃত কম ঝুঁকিপুর্ণ সেগুলোতেই বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি। ফলে প্রায় সব খাতেরই কমবেশি মূল্যবৃদ্ধি ঘটে গতকাল। তবে বাজারের সবচেয়ে কম মূল্যস্তরে থাকা মিউচুয়াল ফান্ডে গতকালও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। বেশ কয়েকটি ফান্ড গতকাল দিনের সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে লেনদেন হতে দেখা যায়।
বিনিয়োগকারীরা দিনের বাজার আচরণ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ব্রেকার হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের ট্রেডিং ফ্লোরগুলোর বেশ কয়েকটি গতকাল আবারও জমজমাট দেখা যায়। অথচ ক’দিন আগেও এসব হাউজের অনেকগুলো ছিল অনেকটা ফাঁকা। কয়েকজন বিনিয়োগকারীর কাছে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে তারা নয়া দিগন্তকে বলেন, বাজারকে তার স্বাভাবিক গতিতে চলতে দিলে বিনিয়োগকারীরা আশ^স্ত থাকেন। কিন্তু প্রয়োজনের অতিরিক্ত মনিটরিং বিনিয়োগকারীদের মাঝে আতঙ্ক তৈরি করে যা কারো কাম্য নয়। কারণ একদিকে বাজারে ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তি নেই। আর যা আছে তার মধ্যে সবাই যে একই ধরনের কোম্পানিতে বিনিয়োগ করবে তাও আশা করা যায় না। বাজারে কোম্পানি থাকলে তাতে বিনিয়োগ করাই স্বাভাবিক। প্রত্যেকে ঝুঁকি মাথায় নিয়েই বিনিয়োগ করে থাকেন। কে কোন শেয়ার কিনবেন তা তার নিজস্ব সিদ্ধান্তে ছেড়ে দেয়াই উচিত। কোনো শেয়ার যদি কেনা না যায় তাহলে তা বাজারে না রাখাই উচিত।
ঢাকা স্টকে গতকাল লেনদেনের শীর্ষে ছিল ব্যাংকিং খাতের কোম্পানি ইস্টার্ন ব্যাংক। ৩৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকায় কোম্পানিটির এক কোটি ৬১ লাখ শেয়ার হাতবদল হয় গতকাল। ২৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকায় এক কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে টেক্সটাইল খাতের শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে আইপিডিসি, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলস, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স, সায়হাম টেক্সটাইলস, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, লাভেলো আইসক্রিম, এনভয় টেক্সটাইলস ও রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স।
ঢাকায় দিনের মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ কোম্পানি ছিল খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ। কোম্পানিটির ৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে গতকাল। ৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে দিনের এ তালিকার দ্বিতীয় স্থানটি দখলে রাখে আইসিবি সোনালী ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড। মূল্য বৃদ্ধিতে ডিএসইর শীর্ষ ১০ সিকিউরিটিজের অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে প্রাইম ফিন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ন্য্যাশনাল ফিড মিলস, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, লাভেলো আইসক্রিম, ওরিয়ন ইনফিউশন, বেক্সিমকো লিমিটেড ও সোনারগাঁও টেক্সটাইলস।
ডিএসইতে গতকাল দরপতনের শীর্ষে ছিল প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলস। কোম্পানিটি গতকাল ৪ দশমিক ৩১ শতাংশ দর হারায়। ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ দর হারিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল এবি ব্যাংক। দরপতনে ডিএসইর শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে রহিমা ফুড করপোরেশন, দেশ গার্মেন্ট, শ্যামপুর সুগার মিলস, বিআইএফসি, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, রূপালি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্সিয়াল ব্যাংক ও জিবিবি পাওয়ার।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








