
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
বঙ্গোপসাগরে নতুন করে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি আগামী কয়েক দিনে শক্তি সঞ্চয় করে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। ভারতের আবহাওয়া দফতরের (আইএমডি) সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার মধ্যে উত্তর আন্দামান সাগর ও সংলগ্ন এলাকায় নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়ে তা পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে। ২১ সেপ্টেম্বর এটি নিম্নচাপে এবং ২২ সেপ্টেম্বর পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। ২৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ ওড়িশা ও উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতরের (বিএমডি) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্তমান গতিপথ অনুযায়ী ব্যবস্থাটি ওড়িশা উপকূলের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ফলে বাংলাদেশে সরাসরি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস এখনো নেই। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, সাগরের ওপর অবস্থানকালে ব্যবস্থাটি কতটা শক্তিশালী হয় এবং শেষ পর্যন্ত কোন পথে অগ্রসর হয়-তার ওপর বাংলাদেশের প্রভাবের মাত্রা নির্ভর করবে। শুক্রবার বিএমডির আবহাওয়াবিদ মো: ওমর ফারুক জানিয়েছিলেন, নিম্নচাপটি সৃষ্টি হলে তা পর্যায়ক্রমে গভীর নিম্নচাপ এমনকি ঘূর্ণিঝড়েও পরিণত হতে পারে; তবে সে সময়কার মডেল পূর্বাভাসে ওড়িশার দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি ছিল।
২৩-২৫ সেপ্টেম্বর বৃষ্টির প্রভাব
নতুন আবহাওয়া ব্যবস্থার কারণে আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি বাংলাদেশে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় ও দক্ষিণাঞ্চলে এর প্রভাব তুলনামূলক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সাথে দেশের অন্য এলাকাতেও বজ্রসহ বৃষ্টি ও অস্থায়ী দমকা হাওয়া হতে পারে।
ইতোমধ্যে গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তেঁতুলিয়ায় ১১৮ মিলিমিটার, আরিচায় ১০৬, নারায়ণগঞ্জে ৯৩, বাঘাবাড়ীতে ৬১ এবং মোংলায় ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। ঢাকায়ও ১১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বিএমডি জানিয়েছে, পরবর্তী কয়েক দিনে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে।
সাগরে বাড়বে ঝুঁঁকি
নিম্নচাপটি শক্তিশালী হওয়ার সাথে সাথে বঙ্গোপসাগরে সমুদ্র উত্তাল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আইএমডির সর্বশেষ উপকূলীয় বুলেটিনে বলা হয়েছে, ওড়িশা উপকূলে ৪৫-৫৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস এবং দমকা হাওয়ায় সর্বোচ্চ ৬৫ কিলোমিটার পর্যন্ত গতি হতে পারে। ২৩ সেপ্টেম্বরের দিকে দক্ষিণ ওড়িশা ও উত্তর অন্ধ্র উপকূলের কাছে গভীর নিম্নচাপ পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
ওড়িশায় ২৩-২৫ সেপ্টেম্বর ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আইএমডির জেলাভিত্তিক সতর্কতায় ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে।
এর ফলে বাংলাদেশ-সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরেও সামুদ্রিক পরিস্থিতির ওপর নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার জেলে ও ছোট নৌযানগুলোকে পরবর্তী সতর্কবার্তার প্রতি নজর রাখতে হবে।
কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা
নিম্নচাপের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গেও বৃষ্টিপাত বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। আইএমডির হিসাবে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর ব্যাপক বৃষ্টির পাশাপাশি বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতেও আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি ঝড়বৃষ্টি বাড়তে পারে। উপকূলবর্তী পশ্চিমবঙ্গে এর প্রভাব তুলনামূলক বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গে সরাসরি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার পূর্বাভাস এখনো দেয়া হয়নি।
বাংলাদেশের জন্য কী অর্থ
বর্তমান পূর্বাভাসে বাংলাদেশের জন্য প্রধান ঝুঁকি সরাসরি ঘূর্ণিঝড় নয়, বরং বাড়তি বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়া। ২৩-২৫ সেপ্টেম্বর বৃষ্টি বাড়লে নগরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা, নিম্নাঞ্চলে পানি জমে যাওয়া, সড়ক যোগাযোগে বিঘœ এবং কৃষিকাজে সাময়িক সমস্যা তৈরি হতে পারে। উপকূলীয় এলাকায় সাগর উত্তাল হলে মাছ ধরার নৌযান ও জেলেদের জন্য ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তবে আবহাওয়া ব্যবস্থাটির গতিপথ ও শক্তি এখনো পরিবর্তনশীল। তাই পরবর্তী ৪৮-৭২ ঘণ্টায় বিএমডি ও আইএমডির নতুন বুলেটিনের ওপর পরিস্থিতির মূল্যায়ন নির্ভর করবে। বিশেষ করে নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপের পর ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয় কি না এবং এর গতিপথ দক্ষিণ ওড়িশা থেকে আরো উত্তর-পূর্ব দিকে সরে আসে কি না-সেটিই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
অতএব, এখনই বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় আঘাতের আশঙ্কা ঘোষণা করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে ২৩-২৫ সেপ্টেম্বর বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি এবং উপকূলে সাগর উত্তাল হওয়ার সম্ভাবনায় সতর্ক নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে।







