নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ রূপকল্প তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী

 কূটনৈতিক প্রতিবেদক

আসন্ন জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় বহুপাক্ষিকতার ওপর জোর দেবেন। তিনি বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ রূপকল্প তুলে ধরবেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, উন্নয়নের ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার, বিশ্বশান্তি, ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, খাদ্য নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সঙ্কটগুলোর টেকসই সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করবেন। এ ছাড়া ইউএনজিএতে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, জলবায়ু বিষয়ক পদক্ষেপ ও জলবায়ু  অর্থায়নের বিষয়গুলো তুলে ধরার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সঙ্কটের ওপর আলোকপাত করবেন। ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল সোমবার ঢাকা থেকে নিউ ইয়র্কের পথে রওনা দেবেন। সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর এবারই প্রথম প্রধানমন্ত্রী ইউএনজিএতে যোগ দিয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সামনে বক্তব্য রাখবেন। ইউএনজিএর সভাপতি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের দায়িত্ব পালন বাংলাদেশের জন্য এবারের অধিবেশনকে ভিন্ন মাত্রা দেবে।
এ দিকে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময়কাল ও সফরসঙ্গির সংখ্যা সীমিত রাখা হয়েছে। তার সান ফ্রান্সিসকো সফরের পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া সফরসঙ্গি ৪০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ২৪ সেপ্টেম্বর ইউএনজিএতে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ২০২৪ সালে ছাত্রদের নেতৃত্বে গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী গণতান্ত্রিক উত্তরণে বিএনপি সরকারের অঙ্গীকারগুলো তুলে ধরবেন। বিশেষ করে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাগুলোর ওপর গুরুত্ব দেবেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তার সরকারের নেয়া কাঠামোগত সংস্কার ও বিভিন্ন উদ্যোগের কথা প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরবেন, যার মধ্যে গত ছয় মাসে সংসদে পাস হওয়া বিভিন্ন বিলও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। 
নিউ ইয়র্কে অবস্থানকালে অন্তত ১৬টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এ ছাড়া রোহিঙ্গা সঙ্কট, বৈশ্বিক বৈষম্য, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট সঙ্কট এবং স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব- বৈঠকে তার অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।
কর্মসূচি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সময় ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে প্রধানমন্ত্রী নিউ ইয়র্কে পৌঁছাবেন। ২২ সেপ্টেম্বর সকালে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের দেয়া প্রাতঃরাশে যোগ দেবেন। এরপর সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে অংশ নেবেন। একই দিন জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে আসা বিশ্ব নেতাদের সম্মানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের সংবর্ধনায় যোগ দেবেন। 
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ আল-খালেদ আল-সাবাহ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্তোনিও কস্তা, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহাম্মদ লতিফ, হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিলস-আইমে এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের পার্শ্ব বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া তার সাথে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক, জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, তথ্য প্রযুক্তি জায়েন্ট মেটার প্রধান বৈশ্বিক বিষয়ক কর্মকর্তা জোয়েল কাপলান, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জায়েদ রাদ আল-হোসেন, কেপিসি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কালি প্রদীপ চৌধুরী এবং বোয়িংয়ের গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডন নেলসনের সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সফরে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য মার্কিন কোম্পানি বোয়িং থেকে আরো ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইতঃপূর্বে বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সই হওয়া বাণিজ্য চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ মোট ২৫টি বোয়িং কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যা এবার পূর্ণতা পেতে পারে। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে প্রাতঃরাশ বৈঠকে যোগ দেবেন। একই দিনে জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে কর্মরত কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর মিশন আয়োজিত নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর যোগ দেয়ার কথা রয়েছে।
নিউ ইয়র্ক সফরের শেষ দিন ২৫ সেপ্টেম্বর ম্যানহাটনে জেপি মরগান আয়োজিত ওয়াল স্ট্রিট প্রতিনিধিদের সাথে প্রাতঃরাশ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী যোগ দিতে পারেন। ২৭ সেপ্টেম্বর তার দেশে ফিরে আসার কথা।