
বিশেষ সংবাদদাতা
* অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা
* ১ জুলাই থেকে কার্যকর
* প্রথম ধাপে ৪০-৫০ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে ৭০-৭৫ শতাংশ
* সব ভাতা মিলবে ২০২৮ থেকে
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’-এর মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছে নবম জাতীয় বেতনস্কেল। গেজেটটি অফিসিয়ালি ১৭ সেপ্টেম্বর জারি হলেও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে গতকাল শনিবার প্রকাশ করা হয়। এর কার্যকারিতা ধরা হয়েছে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে। নতুন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
তবে গেজেটে বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা থাকলেও এক লাফে পুরো বেতন পাচ্ছেন না সরকারি চাকরিজীবীরা। আর্থিক চাপ ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিবেচনায় নতুন মূল বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নবম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বর্ধিত বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ পাবেন। দ্বিতীয় ধাপে ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে তা যথাক্রমে ৭০ ও ৭৫ শতাংশে উন্নীত হবে। ১ জুলাই ২০২৭ থেকে নতুন কাঠামোর শতভাগ মূল বেতন কার্যকর হবে।
অর্থাৎ গেজেটে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতনস্কেল কার্যকর বলা হলেও বাস্তবে পুরো বেতন কাঠামোর সুবিধা পেতে কর্মচারীদের অপেক্ষা করতে হবে আগামী বছরের জুলাই পর্যন্ত।
সর্বনিম্ন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার : নতুন বেতন কাঠামোয় ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ এ গ্রেডে মূল বেতন বেড়েছে প্রায় ১৪২ শতাংশ। অন্য দিকে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা- বৃদ্ধি ১০০ শতাংশ।
মাঝের গ্রেডগুলোতেও মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। ফলে নতুন কাঠামোয় নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির অঙ্ক তুলনামূলকভাবে বেশি। ২০তম গ্রেডের বেতন যেখানে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে, সেখানে প্রথম গ্রেডের বেতন হয়েছে দ্বিগুণ।
গ্রেডভিত্তিক নতুন মূল বেতন
গ্রেড পুরনো মূল বেতন নতুন মূল বেতন
১ ৭৮,০০০ ১,৫৬,০০০
২ ৬৬,০০০ ১,৩২,০০০
৩ ৫৬,৫০০ ১,১৩,০০০
৪ ৫০,০০০ ১,০০,০০০
৫ ৪৩,০০০ ৮৬,০০০
৬ ৩৫,৫০০ ৭১,০০০
৭ ২৯,০০০ ৫৮,০০০
৮ ২৩,০০০ ৪৬,০০০
৯ ২২,০০০ ৪৪,০০০
১০ ১৬,০০০ ৩২,০০০
১১ ১২,৫০০ ২৫,০০০
১২ ১১,৩০০ ২৪,৩০০
১৩ ১১,০০০ ২৪,০০০
১৪ ১০,২০০ ২৩,৫০০
১৫ ৯,৭০০ ২২,৮০০
১৬ ৯,৩০০ ২১,৯০০
১৭ ৯,০০০ ২১,৪০০
১৮ ৮,৮০০ ২১,০০০
১৯ ৮,৫০০ ২০,৫০০
২০ ৮,২৫০ ২০,০০০
এক বছরে বাড়তি ব্যয় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি : নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে এর আর্থিক প্রভাব। সরকারের হিসাবে নতুন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেতন, ভাতা, পেনশন ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধার ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারী এবং ৯ লাখ ২৫ হাজারের বেশি অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী নতুন কাঠামোর আওতায় আসবেন। অর্থাৎ শুধু কর্মরত সরকারি চাকরিজীবী নয়, পেনশন খাতেও এর দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক প্রভাব পড়বে।
পুরো ভাতা এখনই নয় : নতুন বেতনকাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো- মূল বেতন ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও নতুন হারে বিভিন্ন ভাতা কার্যকর হবে আরো পরে। নতুন কাঠামোর বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াতসহ অন্যান্য সুবিধার পূর্ণ কাঠামো ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এতে সরকারি কর্মচারীদের হাতে তাৎক্ষণিকভাবে যে অর্থ যাবে এবং শেষ পর্যন্ত তাদের মোট বেতন-ভাতা যে পর্যায়ে পৌঁছাবে- দুইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকবে।
বাড়িভাড়া সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ : নতুন কাঠামোয় বাড়িভাড়া ভাতার হার মূল বেতনের সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুরনো নিয়মেই বাড়িভাড়া দেয়া হবে। নতুন হার কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ২০তম থেকে ১৬তম গ্রেডের ক্ষেত্রে মূল বেতনের সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া নির্ধারিত হয়েছে। অন্যান্য নির্ধারিত সিটি করপোরেশন ও সাভার-কক্সবাজার পৌর এলাকায় হার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকায় সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ।
উচ্চতর গ্রেডে এ হার ধাপে ধাপে কমেছে। গ্রেড ৪ থেকে ১ এবং তদূর্ধ্ব পর্যায়ে ঢাকায় বাড়িভাড়া মূল বেতনের ৪০ শতাংশ, অন্যান্য নির্ধারিত শহরে ৩০ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকায় ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মূল বেতন ব্যাপকভাবে বাড়ায় শতাংশের হার কমলেও প্রকৃত টাকার হিসাবে বাড়িভাড়া আগের তুলনায় বাড়তে পারে।
এলাকা ও গ্রেডভিত্তিক বাড়ি ভাড়ার নতুন হার
নতুন প্রজ্ঞাপনে কর্মস্থলকে ৩টি মূল ভৌগোলিক অঞ্চলে ভাগ করে গ্রেড অনুযায়ী মূল বেতনের নির্দিষ্ট শতাংশ বাড়ি ভাড়া হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে :
ক. ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকা
গ্রেড ১৬ থেকে ২০ (সর্বনিম্ন ধাপ থেকে সর্বোচ্চ ধাপ) : মূল বেতনের ৬০%
গ্রেড ১০ থেকে ১৫ (সর্বনিম্ন ধাপ থেকে সর্বোচ্চ ধাপ) : মূল বেতনের ৫০%
গ্রেড ৫ থেকে ৯ (সর্বনিম্ন ধাপ থেকে সর্বোচ্চ ধাপ) : মূল বেতনের ৪৫%
গ্রেড ১ থেকে ৪ ও তদূর্ধ্ব (সর্বনিম্ন ধাপ থেকে সর্বোচ্চ ধাপ) : মূল বেতনের ৪০%
খ. অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও নির্দিষ্ট পৌর এলাকা (চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও বগুড়া সিটি করপোরেশন এবং সাভার ও কক্সবাজার পৌর এলাকা)
গ্রেড ১৬ থেকে ২০ : মূল বেতনের ৫০%
গ্রেড ১০ থেকে ১৫ : মূল বেতনের ৪০%
গ্রেড ৫ থেকে ৯ : মূল বেতনের ৩৫%
গ্রেড ১ থেকে ৪ ও তদূর্ধ্ব : মূল বেতনের ৩০%
গ. দেশের অন্যান্য জেলা, উপজেলা ও জেলা সদরের এলাকা
গ্রেড ১৬ থেকে ২০ : মূল বেতনের ৪৫%
গ্রেড ১০ থেকে ১৫ : মূল বেতনের ৩৫%
গ্রেড ৫ থেকে ৯ : মূল বেতনের ৩০%
গ্রেড ১ থেকে ৪ ও তদূর্ধ্ব : মূল বেতনের ২৫%
চিকিৎসা ভাতা সর্বোচ্চ ৬ হাজার : নতুন কাঠামোয় বয়সভেদে চিকিৎসা ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীরা মাসে ৩ হাজার টাকা এবং ৫০ বছর এক দিন থেকে অবসরোত্তর ছুটি শেষ হওয়া পর্যন্ত ৪ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন।
পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সাথে চিকিৎসা ভাতাও বাড়বে। ৬০ বছরের বেশি থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ৫ হাজার টাকা এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সে মাসে ৬ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সব গ্রেডে মোবাইল ভাতা : নতুন পে-স্কেলের আরেকটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হচ্ছে সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীকে মোবাইল ভাতার আওতায় আনা। প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের জন্য মাসে ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য ১৫০ টাকা করে মোবাইল ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া যাতায়াত ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য টিফিন ভাতা ৫০০ টাকা করা হয়েছে। কার্যভার ভাতাও মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলা নববর্ষ ভাতা ১৫ শতাংশ : নতুন কাঠামোয় বাংলা নববর্ষ ভাতা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। মাসিক নিট পেনশন গ্রহণকারী অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীরাও নির্ধারিত নিয়মে এ সুবিধা পাবেন। অন্য দিকে বার্ষিক উৎসব ভাতা ও শ্রান্তি-বিনোদন ভাতা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী বহাল রাখা হয়েছে।
সন্তানপ্রতি শিক্ষাভাতা ৫০০ টাকা : সরকারি কর্মচারীদের সন্তানপ্রতি মাসে ৫০০ টাকা শিক্ষা সহায়ক ভাতা দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য মাসে ১ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। বয়সের সনদ দাখিল সাপেক্ষে সন্তানের ২৩ বছর বয়স পর্যন্ত এ সুবিধা পাওয়ার বিধান রয়েছে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য নতুন ভাতা : নতুন কাঠামোয় প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সাথে সব গ্রেডের কর্মচারীকে মোবাইল ভাতার আওতায় আনা হয়েছে।
বকেয়া নিয়ে বড় অঙ্কের দায় : নতুন পে-স্কেলের কার্যকর তারিখ ১ জুলাই ২০২৬। কিন্তু গেজেট জারি হয়েছে সেপ্টেম্বর মাসে। ফলে ১ জুলাই থেকে আদেশ জারির সময় পর্যন্ত যে বেতন পার্থক্য তৈরি হবে, তা বকেয়া হিসাবে প্রাপ্য হওয়ার কথা।
এখানেই সরকারের সামনে তাৎক্ষণিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। কারণ এক দিকে চলতি অর্থবছরের বেতন ব্যয় বাড়বে, অন্য দিকে পূর্ববর্তী সময়ের বকেয়া পরিশোধের চাপ তৈরি হবে। তবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কারণে একসাথে পুরো আর্থিক চাপ নেয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না।
কেন তিন ধাপে বাস্তবায়ন : সরকার নতুন বেতনকাঠামো একবারে বাস্তবায়ন না করে দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মূলত আর্থিক চাপ ও সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিবেচনায়। সরকারি ব্যাখ্যায়ও বলা হয়েছে, পুরো কাঠামো একসাথে কার্যকর করলে বাজেটের ওপর তাৎক্ষণিক চাপ এবং মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ কারণে প্রথম পর্যায়ে নিম্ন গ্রেডের চাকরিজীবীদের বর্ধিত বেতনের তুলনামূলক বেশি অংশ দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ধাপে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বর্ধিত মূল বেতন কার্যকর হবে। অন্য দিকে নবম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ে প্রথম ধাপে ৪০ এবং দ্বিতীয় ধাপে ৭০ শতাংশ কার্যকর হবে।
রাজস্বের ওপর কতটা চাপ : নতুন পে-স্কেলের পূর্ণ বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকার ব্যয় যুক্ত হবে। ফলে বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি দায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের বাজেটে মিডিয়াম টার্ম বাজেট ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে এ ব্যয়ের সংস্থান রাখা হয়েছে।
তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুধু বরাদ্দ থাকলেই হবে না- রাজস্ব আদায়, ঘাটতি অর্থায়ন, ঋণের সুদ, উন্নয়ন ব্যয় এবং অন্যান্য চলতি ব্যয়ের সাথে সমন্বয় করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশেষ করে বেতন বৃদ্ধির সাথে পেনশন ও বিভিন্ন ভাতা যুক্ত হওয়ায় এটি এককালীন ব্যয় নয়; বরং সরকারের নিয়মিত ও দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব ব্যয়ের অংশ হয়ে যাবে।
একনজরে নতুন পে-স্কেল : কার্যকর : ১ জুলাই ২০২৬; গেজেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬; আদেশ : চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬; মোট গ্রেড : ২০; সর্বনিম্ন মূল বেতন : ২০,০০০ টাকা; সর্বোচ্চ মূল বেতন : ১,৫৬,০০০ টাকা; সর্বোচ্চ বেতন বৃদ্ধি : প্রায় ১৪২ শতাংশ; প্রথম ধাপ : ১ জুলাই ২০২৬; দ্বিতীয় ধাপ: ১ জানুয়ারি ২০২৭; শতভাগ মূল বেতন : ১ জুলাই ২০২৭; নতুন ভাতা : ১ জানুয়ারি ২০২৮; অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় : প্রায় ১,০৫,৫৮০ কোটি টাকা : সুবিধাভোগী : প্রায় ২৪ লাখ কর্মরত সামরিক-বেসামরিক কর্মচারী এবং ৯ লাখ ২৫ হাজারের বেশি অবসরপ্রাপ্ত ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী।
সামনে মূল চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়ন : নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে বেতনকাঠামোর নীতিগত অনিশ্চয়তা দূর হলেও এখন সামনে এসেছে বাস্তবায়নের বড় কাজ। বেতন নির্ধারণ, পে-ফিক্সেশন, বকেয়া নির্ধারণ, উচ্চতর গ্রেড, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন পুনর্নির্ধারণ এবং বিভিন্ন ভাতা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দফতরগুলোকে পৃথক নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
বিশেষ করে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও শতভাগ বেতন পেতে সময় লাগবে ১ জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত। আবার নতুন ভাতার পূর্ণ কাঠামো কার্যকর হবে ২০২৮ সালের শুরুতে। ফলে আগামী দেড় বছর সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ব্যবস্থায় একটি দীর্ঘ রূপান্তরপর্ব চলবে।
এক দিকে সরকারি কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা ও আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, অন্য দিকে রাষ্ট্রের নিয়মিত ব্যয়ের ওপর যুক্ত হয়েছে বড় অঙ্কের স্থায়ী দায়। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা এবং বাড়তি ব্যয়ের বিপরীতে টেকসই রাজস্ব উৎস নিশ্চিত করাই এখন নতুন পে-স্কেলের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক পরীক্ষা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








