
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
তিন সপ্তাহ টানা পতনের পর অবশেষে উন্নতি ঘটেছে পুঁজিবাজার সূচকের। তবে গত সপ্তাহের শুরুটাও ছিল পতন দিয়ে। ১৩ সেপ্টেম্বর রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা শেয়ারবাজারের প্রধান সূচকটির অবনতি ঘটে ৯৬ দশমিক ৬১ পয়েন্ট। পরদিন সোমবারও পতন ঘটে সূচকের। ওই দিনই সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শিল্প প্রতিষ্ঠানে জ¦ালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা প্রদান করা হলে পুঁজিবাজার পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে। ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা শেয়ারবাজারে সূচকের উন্নতি ঘটে ৯৩ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট। পরবর্তী দুই দিনও বাজারটি সূচকের কমবেশি উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। আর এভাবেই সপ্তাহান্তে বাজার সূচকের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে।
জ¦ালানি সঙ্কটের কারণে দেশের শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ও দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় তার ব্যাপক প্রভাব পড়ে পুঁজিবাজারে। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তাই টানা পতনের মুখে ছিল দেশের পুঁজিবাজার। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগও যখন এ পতন থামাতে ব্যর্থ তখনই সরকারের শীর্ষপর্যায় থেকে শিল্প কারখানায় জ¦ালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে। এর সুফল ঘরে তুলে গত সপ্তাহের শেষ তিনটি কর্মদিবস। তিনটি কর্মদিবসেই সূচকের উন্নতি ঘটে। এর ফলে গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সব সূচকের কমবেশি উন্নতি ঘটে। স্বস্তি ফিরে আসে পুঁজিবাজারে।
ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গত সপ্তাহে ১৬ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। রোববার ৫ হাজার ৫১৫ দশমিক ১৭ পয়েন্ট থেকে সূচকটি বৃহস্পতিবার সপ্তাহান্তে ৫ হাজার ৫৩২ দশমিক ১৫ পয়েন্টে দাঁড়ায়। তবে সপ্তাহের প্রথম দুই কর্মদিবসে বাজারটি সূচক হারিয়েছিল ১৩৫ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট। ওই সময় বাজারটির প্রধান সূচক নেমে আসে ৫ হাজার ৩৭৯ পয়েন্টে। কিন্তু পরবর্তি তিনটি কর্মদিবসে সূচকের উন্নতি হওয়ায় তা ৫ হাজার ৫৩২ দশমিক ১৪ পয়েন্টে পৌঁছে যায়। একই সময় বাজার দুই বিশেষায়িত সূচকের উন্নতি রেকর্ড করা হয় যথাক্রমে ৫ দশমিক ৮৫ ও ১ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট।
খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে বস্ত্র খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে বস্ত্র খাত। ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সাধারণ বীমা খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ব্যাংক খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ১১ দশমিক ১ শতাংশ। ওষুধ ও রসায়ন খাত ১০ দশমিক ২ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা মিউচুয়াল ফান্ড খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বিদায়ী সপ্তাহে (১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর) লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে শীর্ষে উঠে এসেছে বস্ত্র খাতের কোম্পানি এনভয় টেক্সটাইল লিমিটেড।
ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা সূত্রে দেখা যায় সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির ২০ কোটি ০৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা ছিল ডিএসইর মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের ১৯ কোটি ১৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর তৃতীয় স্থানে থাকা সায়হাম টেক্সটাইলের ১৭ কোটি ৪২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ডিএসইর সাপ্তাহিক লেনদেনের তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো- ইস্টার্ন ব্যাংক, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, ব্র্যাক ব্যাংক, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, মালেক স্পিনিং, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স এবং আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি।
বিদায়ী সপ্তাহে দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে বস্ত্র খাতের কোম্পানি আলহাজ টেক্সটাইলস লিমিটেড। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ার দর ২০ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়েছে। সপ্তাহ শেষে শেয়ারের সমাপনী মূল্য দাঁড়িয়েছে ৮৪ টাকা ৪০ পয়সায়। দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর বেড়েছে ১৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আর তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা এপেক্স স্পিনিংয়ের শেয়ার দর বেড়েছে ১৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
ডিএসইর সাপ্তাহিক দর বৃদ্ধির তালিকায় আরো ছিল ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্কস, মেঘনা পেট, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, ওরিয়ন ইনফিউশন, আইএফআইসি ব্যাংক এবং সোনারগাঁও টেক্সটাইল।
বিদায়ী সপ্তাহে দর পতনের শীর্ষে ছিল বিডি থাই ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ার দর ১৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ কমে সমাপনী মূল্য দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ১০ পয়সায়। দর পতনের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা সাইফ পাওয়ারটেকের শেয়ার দর কমেছে ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এর পরেই থাকা ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর কমেছে ১০ দশমিক ০৫ শতাংশ।
ডিএসইর সাপ্তাহিক দর পতনের শীর্ষ দশে থাকা কোম্পানিগুলো হলো- সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড, মাইডাস ফাইন্যান্স, জাহিন স্পিনিং, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স, বেক্সিমকো, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম এবং তাকাফুল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, জ¦ালানি সঙ্কটের কারণে শিল্প প্রতিষ্ঠানে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তারই প্রভাব ছিল পুঁজিবাজারে। এখন এই সঙ্কট কাটিয়ে শিল্প কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক গতি ফিরলে পুঁজিবাজারও স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। কারণ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির একটি বড় অংশই শিল্প ও সেবা খাতের, যা বরাবরই জ¦ালানিনির্ভর।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








