এআই সত্যকে গুজব গুজবকে সত্যে পরিণত করছে : ড. মুহাম্মদ ইব্রাহীম
ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসির ছায়া সংসদে অতিথিদের সাথে বিজয়ী বিতার্কীকেরা । নয়া দিগন্ত


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাবে আজ আমাদের রাষ্ট্রের সিকিউরিটি, অর্থনৈতিক সিকিউরিটি এমনকি ব্যক্তিগত সিকিউরিটিও হুমকির মুখে। সাইবার সিকিউরিটিও নাজুক। ইতঃপূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে অর্থ চুরি হয়েছে এতে এআইয়ের প্রভাব ছিল কি না তা নিয়ে ভাবতে হবে। ফেইক নিউজের মাধ্যমে আজ ব্যক্তিত্বকে বদলে ফেলা হচ্ছে। সত্যকে গুজব, গুজবকে সত্যে পরিণত করা হচ্ছে। এআইয়ের অপব্যবহারে দুনিয়াটা অচেনা হয়ে যাচ্ছে। এ যেন একটা যুদ্ধ। তবে এআইয়ের উপর জ্ঞানের কর্র্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে, সেটা হলো ‘কমনসেন্স’। এআইয়ের অনেক সেন্স আছে, কিন্তু মানুষের মতো কমনসেন্স নেই। সুপার এআই আসার আগেই তা নিয়ন্ত্রণে নতুন বিশ^সংস্থার মাধ্যমে বিশ^ সমঝোতা সৃষ্টি করতে হবে। বৈশি^ক আইনি বিধান প্রয়োজন। এআই আজ সব ক্ষেত্রে নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করছে। এমন কি যারা এটা বানিয়েছে তারাও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে। বর্তমান অর্থনীতি এআইয়ের নয়, এর মাধ্যমে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সৃষ্টি হবে। বিশে^ বহু মানুষের কাজ চলে যাবে। এআই বিকল্প কাজ সৃষ্টি করতে আসেনি। তবে এআই নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে।
 এফডিসিতে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ও মানবসভ্যতার অস্তিত্বের চ্যালেঞ্জ নিয়ে ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বর্ষিয়ান বিজ্ঞান লেখক  ও গবেষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইব্রাহীম এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, প্রযুক্তি মানুষের জন্য আশির্বাদ হলেও এর অপব্যবহার সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিকিৎসা বিজ্ঞান, রোগ নির্ণয়, নতুন ওষুধ উদ্ভাবন, কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি, দুর্যোগের পূর্বাভাস, মানব শ্রমের অপচয় কমানো, ব্যবসা-বাণিজ্য, গ্রাহক সেবাসহ জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই নানাভাবে সহযোগিতা করছে। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারের কারণে ভুয়া ছবি, ভুয়া ভিডিও, অডিও ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে সমাজে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। কণ্ঠ ও চেহারা নকল করে ভুয়া কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে প্রতারণা করা হচ্ছে। এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে যেভাবে অপসাংবাদিকতা শুরু হয়েছে, তা প্রতিরোধ করা না গেলে মূল ধারার গণমাধ্যম হুমকির মুখে পড়বে। মানুষ সংবাদের বিশ^াসযোগ্যতা হারাবে। অপসাংবাদিকতা গণমাধ্যমকে চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করাবে।
‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ মানবসভ্যতার জন্য আশির্বাদ নয়, অস্তিত্বের সঙ্কট’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয়কে পরাজিত করে সরকারি তিতুমীর কলেজ বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, ড. শাকিলা জেসমিন, মাইদুর রহমান রুবেল ও আনোয়ার হোসেন। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। ছায়া সংসদটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। বিজ্ঞপ্তি।

Advertisement