ইসরাইলি নির্বাচন, কাতারের হস্তক্ষেপের অভিযোগ, কাতারের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ অস্বীকার, মাজেদ আল-আনসারি, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, আইজেনকোট, আরব দলগুলোর আসন, ইসরাইলের সরকার গঠন
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি। সংগৃহীত

সদ্য সমাপ্ত ইসরাইলি নির্বাচনে কাতার হস্তক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। তবে ইসরাইলের নির্বাচনে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ কিংবা নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের অভিযোগ গতকাল বৃহস্পতিবার পুরোপুরি অস্বীকার করেছে কাতার। বার্তা সংস্থা অ্যানাদোলু এই খবর জানিয়েছে।

Advertisement

কাতারের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তথা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছি যে কাতার ইসরাইলি নির্বাচনে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেছে কিংবা এর ফলাফল প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত কোনো কার্যক্রমে অর্থ জোগান দিয়েছে।’

আনসারি ইসরাইলের কিছু রাজনীতিবিদ ও সংবাদমাধ্যমের ব্যক্তিত্বকে কাতারকে তাদের নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতার ‘বলির পাঁঠা‘ বানানোর জন্য অভিযুক্ত করেন এবং এই ধরনের অভিযোগকে ‘হাস্যকর ও বিপজ্জনক‘ বলে আখ্যায়িত করেন।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নোয়াম সোহলবার্গ নিরাপত্তাবিষয়ক সংস্থা শিন বেতকে আরব দলগুলোর পক্ষে কোনো ‘শত্রুভাবাপন্ন বৈদেশিক হস্তক্ষেপ‘ ঘটেছে কি না তা তদন্তের নির্দেশ দেয়ার পর, কয়েকজন ইসরাইলি রাজনীতিবিদ কাতারকে এই সন্দেহভাজন বৈদেশিক হস্তক্ষেপের সাথে যুক্ত করে বক্তব্য দেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে কাতারের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হলো।

আল-আনসারি আরো উল্লেখ করেন, নির্বাচন থেকে গঠিত যেকোনো পরবর্তী সরকারের উচিত হবে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসঙ্ঘ প্রস্তাবগুলো মেনে চলা, ফিলিস্তিন সঙ্কটের সমাধান করা এবং পূর্ব জেরুসালেমকে রাজধানী করে ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার ও স্বাধীন রাষ্ট্রের অধিকারকে সম্মান জানানো।

তিনি যোগ করেন, এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ কাতারকে তার মধ্যস্থতা, কূটনৈতিক ও মানবিক প্রচেষ্টা কিংবা ফিলিস্তিনি জনগণ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি তাদের সমর্থন থেকে একচুলও বিচ্যুত করতে পারবে না।

সবগুলো নিয়মিত ব্যালট গণনা শেষে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন নিশ্চিত করেছে, যেখানে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। অন্যদিকে আরব দলগুলো যৌথভাবে ১৯টি আসনে জয়লাভ করেছে।

১২০ আসনবিশিষ্ট নেসেটে (ইসরাইলি পার্লামেন্ট) কোনো প্রধান জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন ছুঁতে পারেনি। এর ফলে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় আরব আইনপ্রণেতাদেরকে সম্ভাব্য নির্ণায়ক শক্তিতে পরিণত করেছে। সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর