হরমুজ প্রণালী, নিষিদ্ধ পথ, তেলবাহী ট্যাংকার, বিস্ফোরণ,ইরান, নৌমাইন, বিস্ফোরণ, পরিত্যক্ত
হরমুজ প্রণালীতে বিস্ফোরণের শিকার তেলবাহী সুপারট্যাংকার (ফাইল ছবি)। প্রেসটিভি

হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণে নিষিদ্ধ পথে চলাচলের সময় তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার নৌমাইনে আঘাত পেয়ে বিস্ফোরিত হয়েছে। এতে জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। পরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের দক্ষিণ উপকূলে সেগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি)।

Advertisement

ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভি ২৯ অক্টোবর জানায়, বৃহস্পতিবার আইআরজিসির নৌবাহিনীর জনসংযোগ দফতর এক বিবৃতিতে এ তথ্য দেয়। বিবৃতিতে বলা হয়, গত আট মাস ধরে হরমুজ প্রণালী ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ট্যাংকারগুলো নৌবাহিনীর সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে নিষিদ্ধ পথে চলছিল।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তেলবাহী ট্যাংকারগুলো তাদের সব রাডার ও নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছিল। হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণের একটি নিষিদ্ধ পথ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। আইআরজিসির নৌবাহিনীর সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে এগিয়ে যাওয়ার সময় সেগুলো নৌমাইনে আঘাত পায় এবং বিস্ফোরিত হয়।’

আইআরজিসির নৌবাহিনী সতর্ক করে বলেছে, প্রণালীর নিষিদ্ধ পথগুলোতে নৌমাইন পেতে রাখা হয়েছে। এসব পথে চলাচলের দায় জাহাজের মালিক ও নাবিকদেরই নিতে হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘মাঠপর্যায়ের বাস্তবতাই পরিণতি নির্ধারণ করবে। প্রণালীর নিয়মকানুন উপেক্ষা করে সন্ত্রাসী ও আগ্রাসী মার্কিন সামরিক বাহিনীর উসকানিতে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হলে তার জবাব দেয়া হবে কঠোরভাবে।’

আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি হরমুজ প্রণালীতে নৌমাইন অপসারণের বিষয়ে সেন্টকমের দাবির প্রমাণ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ‘শিশুহত্যাকারী সেন্টকমকে শুধু বিবৃতি নয়, স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায় এমন প্রমাণ দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীর বাস্তবতা নির্ধারিত হয় আকাশে, স্থলে ও সমুদ্রে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম পরিচালনাকেন্দ্রে বসে চালানো প্রচারে নয়।’

কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শক্তিধর দেশগুলোর সীমাবদ্ধতা বোঝাতে তিনি ১৯৫৬ সালের সুয়েজ সংকটের উদাহরণও টানেন। সে সময় ব্রিটেনের মতো শক্তিশালী দেশও এমন নৌপথ নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছিল।

এদিকে, বৃহস্পতিবার ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেছেন, হরমুজ প্রণালী এখন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কৌশলগত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইসলামী প্রজাতন্ত্রের শর্ত পুরোপুরি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এটি বন্ধ থাকবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের জবাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে ইরান। ৪০ দিন পর এপ্রিলের শুরুতে ওই যুদ্ধ থামে।

১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর পঞ্চম অনুচ্ছেদে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়া ও পরিচালনার দায়িত্ব ইরানের ওপর ন্যস্ত করা হয়।

তবে ওয়াশিংটন প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব খর্ব করার চেষ্টা করে এবং যুদ্ধ অবসানের চুক্তি লঙ্ঘন করে নৌ অবরোধ আরোপ করে। এর জবাবে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে সব ধরনের চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে তেহরান।