ইসরাইল, ঝুলন্ত নির্বাচন,  বিশেষ ভোট,  সংসদীয় ক্ষমতার সমীকরণ,
ইসরাইলি এক সেনা ভোট দিচ্ছে। সংগৃহীত

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনে মোট ভোটের ৭৭ দশমিক ৬ শতাংশ গণনার পর ফলাফল এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। পাঁচ লাখের বেশি বিশেষ বা দ্বৈত খামের ভোট গণনা শুরু হওয়ায় পার্লামেন্ট বা নেসেটে দলগুলোর আসন সংখ্যা বদলে যেতে পারে। এবারের নির্বাচনে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ভোটদানের হার প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষ এই ভোট গণনা বুধবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

Advertisement

ওয়াই নেট নিউজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) জানায়, সাধারণ কেন্দ্রে ভোট দিতে না পারা ভোটারদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ এই দ্বৈত খামের ভোটগুলো শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এর মধ্যে রয়েছেন সেনা সদস্য, রিজার্ভ সেনা, কূটনীতিক, পুলিশ সদস্য, কারাগারের কর্মী, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী এবং নিজ বাড়ি থেকে বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা। প্রতিটি ভোট বেনামে একটি খামে ভরে তার ওপর পরিচয় সংবলিত দ্বিতীয় খামে সিল করা হয়। দ্বৈত ভোট পড়েনি তা নিশ্চিত হওয়ার পরই ভেতরের বেনামি খামটি জাতীয় গণনার সাথে যুক্ত করা হয়।

চলমান যুদ্ধ এবং বিপুলসংখ্যক রিজার্ভ সেনা ও বাস্তুচ্যুত মানুষের কারণে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন এবার রেকর্ডসংখ্যক বিশেষ ভোটের প্রস্তুতি নিয়েছে। ২০২২ সালের নির্বাচনে এ ধরনের চার লাখ ৬০ হাজার ভোট পড়েছিল। আর এবার এই সংখ্যা ছয় লাখ থেকে সাড়ে ছয় লাখের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অতীতে দেখা গেছে, এই ভোটগুলো সাধারণত জায়নবাদী দলগুলোর পক্ষেই বেশি যায়। কারণ, এসব ভোটারের একটি বড় অংশই হলো সেনা সদস্য।

বুধবার দুপুরের তথ্য অনুযায়ী, বৈধ ভোটের ৭৭ দশমিক ৬ শতাংশ গণনা শেষ হয়েছে। মঙ্গলবারের রাত ও বুধবার সকালজুড়ে রাজনৈতিক ব্লকের শক্তিমত্তায় ওঠানামা দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ব্লকের আসন কমে ৫৪টিতে নেমেছে, গাদি আইজেনকোটের ব্লকের আসন দাঁড়িয়েছে ৪৯টিতে এবং আরব দলগুলো পেয়েছে ১৭টি আসন। বাকি ভোট, বিশেষ করে দ্বৈত খামের ভোটগুলো যুক্ত হওয়ার পর এই চিত্রে পরিবর্তন আসতে পারে।

সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ভোটদানের হার ছিল ৭৯ দশমিক ৯ শতাংশ, যা গত ২০২২ সালের নির্বাচনের চেয়ে ৬ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। যুদ্ধক্ষেত্রসহ ইসরাইলজুড়ে সামরিক ঘাঁটি ও ইউনিটগুলোতে প্রায় ৮৯ জন নির্বাচন কর্মকর্তা কাজ করেছেন।

কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের প্রধান এলাদ নাভে ওয়াই নেট নিউজকে জানান, তারা ভোটের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট। তবে বিশেষ ভোটের প্রভাব এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, 'যতক্ষণ না সব কেন্দ্রের ভোট সিস্টেমে প্রবেশ করানো হচ্ছে এবং বিশেষ ভোট গণনা শেষ হচ্ছে, ততক্ষণ আমরা নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারি না। ভোটের নানা ধাপের যাচাই-বাছাই শেষে আগামী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে এই গণনা শেষ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।'