
ইসরাইলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে কোনো দলই কখনো এককভাবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে সব সময়ই জোট সরকার গঠিত হয়েছে। এবারো সম্ভবত তার ব্যাতিক্রম হচ্ছে না দেশটিতে।
৭০ শতাংশেরও বেশি ভোট গণনা শেষে মনে হচ্ছে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বা তার অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন কোনো জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে না।
রাতভর নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন এবং পরবর্তী সরকার গঠনের অঙ্গীকার করেন।
উল্লসিত সমর্থকদের উদ্দেশে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ডানপন্থি জোটের প্রতি জায়নবাদী, ইহুদি ও ইহুদি রাষ্ট্রের সমর্থকদের মধ্যে স্পষ্ট ও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসমর্থন রয়েছে।’ তবে তিনি সরাসরি বিজয় দাবি করেননি।
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের একটি শক্তিশালী, জাতীয়তাবাদী, ডানপন্থি সরকার গঠন করতে হবে।’
অন্যদিকে আইজেনকোট তার ইয়াশার পার্টির সমর্থকদের বলেন, ‘জনগণ পরিবর্তনকে বেছে নিয়েছে। ব্যর্থতার জোট জনগণের আস্থা হারিয়েছে। ইসরাইলের জনগণ বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অব্যাহত রাখার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি আমার সহযোগীদের সাথে কাজ করব, যাতে জনগণের রায় একটি জায়নবাদী সরকারে প্রতিফলিত হয়। এবং তা হবে স্থিতিশীল ও ইসরাইলের সব নাগরিকের জন্য কল্যাণকর। আর তা দ্রুতই করতে হবে। কারণ দেশকে আবারো একত্রিত করা প্রয়োজন।’
ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন দলের নেতাদের সাথে পরামর্শ করবেন। এরপর যার সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে তিনি মনে করবেন, তাকেই সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন।
এরপর ওই প্রার্থীর হাতে জোট গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় থাকবে। তবে অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হলে তিনি আরো ১৪ দিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে পারবেন। এই সময়ের মধ্যে আলোচনা ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য একজন প্রার্থীকে নিজস্ব জোট গঠনের চেষ্টা করার সুযোগ দিতে পারেন।
সেটিও ব্যর্থ হলে নেসেটের সদস্যরা প্রেসিডেন্টকে তৃতীয় একজন নেতাকে সুযোগ দেয়ার অনুরোধ করতে পারেন। আর তাতেও সফলতা না এলে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দেয়া হবে।
২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে দলগুলোর সহযোগিতায় ব্যর্থতার কারণে ইসরাইলে পাঁচটি পৃথক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
২০২২ সালের নির্বাচনে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ দল ১২০ আসনের মধ্যে ৩২টি জিতে সবচেয়ে বড় দলে পরিণত হয়। পরে তিনি কয়েকটি কট্টর ডানপন্থি দলের সাথে জোট গঠন করেন। যার ফলে তিনি ও তার মিত্ররা ৬৪ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পান।
সূত্র : বিবিসি
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








