ইসরাইল, সংসদ নির্বাচন, ভোটগ্রহণ, ফলাফল,
ইসরাইলে ভোট দেয়ার একটি চিত্র। আনদোলু

অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় নির্বাচনে ইসরাইলে আজ মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ চলছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা এবং পরবর্তীতে গাজায় নির্বিচার যুদ্ধের পর এটিই প্রথম নির্বাচন। একই সাথে ইরান, লেবানন, ইয়েমেন, সিরিয়া ও কাতারে ইসরাইলি সামরিক হামলার ঘটনার মধ্যে দেশের নাগরিকরা তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভোট দিচ্ছেন।

Advertisement

জেরুজালেম টাইমস এবং তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু (২৭ অক্টোবর) জানায়, সবচেয়ে ডানপন্থী ও কট্টরপন্থী জোটের নেতৃত্ব দেয়া প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজের মেয়াদ বাড়াতে লড়ছেন। গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা ও দুর্নীতির মামলার মুখে তিনি মূলত রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। বিপরীতে থাকা বিরোধী জোটও মূল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ডানপন্থী পথই বেছে নিয়েছে। ভোটে ইসরাইলিদের সাড়া বেশ ভালো; সকাল ১০টার মধ্যে রেকর্ড ১৬.৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা ১৯৮১ সালের পর সর্বোচ্চ। তবে পশ্চিম তীরে পাথর ছোড়ার ঘটনা, হাইফায় সাংবাদিক লাঞ্ছনা ও নির্বাচনী ঘুষের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতারের খবরও পাওয়া গেছে।

রাত ১০টায় বুথফেরত জরিপ ও প্রাথমিক আভাস
মঙ্গলবার রাত ১০টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই দেশটির বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল বুথফেরত জরিপ বা এক্সিট পোল প্রকাশ করবে। এই আগাম ধারণা থেকে প্রতিটি দল কত আসন পেতে পারে এবং নেতানিয়াহু নাকি বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেন, তার প্রথম চিত্র পাওয়া যাবে। তবে বুথফেরত জরিপের ধারণার সাথে চূড়ান্ত ফলের কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। কারণ বেশ কিছু ছোট দল পার্লামেন্টে ঢোকার জন্য প্রয়োজনীয় ৩.২৫ শতাংশ ভোটের কাছাকাছি রয়েছে। দলগুলো অল্প ভোটের ব্যবধানে বাদ পড়লে পুরো জোটের আসন সংখ্যায় বড় পরিবর্তন আসবে। প্রাথমিক জনমত জরিপ অনুযায়ী আইজেনকটের 'ইয়াশার' দল ২২ থেকে ২৩টি এবং নেতানিয়াহুর 'লিকুদ' ১৯ থেকে ২১টি আসন পেতে পারে।

গণনার রাতে যেসব বিষযে চোখ থাকবে
সাধারণ কেন্দ্রগুলোর ভোট গণনার পর বুধবার সকালের মধ্যেই একটি পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যাবে। তবে চূড়ান্ত হিসাব পাল্টে যেতে পারে সাড়ে ছয় লাখের মতো 'বিশেষ ব্যালট' গণনার পর। ডাবল খামে পাঠানো এসব ভোটের মধ্যে রয়েছে সেনা, কূটনীতিক, কয়েদি ও চিকিৎসাকর্মীদের রায়। এই ভোটগুলো অন্তত ১৪টি আসন এবং ছোট দলগুলোর টিকে থাকার ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে। সব হিসাব শেষ করে শুক্রবারের মধ্যে চূড়ান্ত ফলাফল প্রস্তুত হবে এবং ৪ নভেম্বর তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

ফল প্রকাশের পর যা ঘটতে পারে
সবচেয়ে বেশি আসন পেলেই যে কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন, বিষয়টি তেমন নয়। ফল প্রকাশের পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ বিজয়ী সব দলের সাথে কথা বলবেন। যে নেতা জোট গঠনের সবচেয়ে বেশি সুযোগ পাবেন, তাকেই তিনি সরকার গড়ার প্রথম দাওয়াত দেবেন। প্রথম মনোনীত ব্যক্তি ২৮ দিনের মধ্যে সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কোনো সদস্যকে সেই সুযোগ দেবেন।

নতুন জোট নাকি আবারও নির্বাচন?
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী ও ধর্মীয় জোটের ঝুলিতে সব মিলিয়ে ৫০টির মতো আসন যেতে পারে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের চেয়ে কম। অন্যদিকে আইজেনকটের সম্ভাব্য জোটও হয়তো এককভাবে ৬১টি আসন পাবে না। ফলে ফিলিস্তিনিদের নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থন ছাড়া তাদের সরকার গড়া কঠিন হবে। কোনো পক্ষই যদি স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তবে একটি জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গড়ার চাপ তৈরি হতে পারে। আর কোনো সমঝোতা না হলে ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মতো আবারও নতুন নির্বাচনের মুখোমুখি হতে পারে ইসরাইল।