বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ইরান-ইসরাইল সংঘাত, এয়াল জামির, ইরানে সামরিক অভিযান, ইরানের সরকার উৎখাত, ইসরাইলি সামরিক নেতৃত্ব, ইসরাইলের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা, ইসরাইল-ইরান উত্তেজনা
লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির। সংগৃহীত

ইরানকে কিভাবে মোকাবেলা করা উচিত—তা নিয়ে ইসরাইলের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যকার মতপার্থক্য দিন দিন বাড়ছে বলে বিভিন্ন ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সহযোগীরা মনে করেন যে কেবল সরাসরি সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরানের বর্তমান সরকারকে উৎখাত করা সম্ভব নয়।

Advertisement

ইসরাইলের চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও এর পার্শ্ববর্তী সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে দেশটির সামরিক প্রধান এয়াল জামির এবং নেতানিয়াহুর মধ্যে এক ‘অভপূর্ব‘ বাকবিতণ্ডা ও বিরোধ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, জামিরসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তার আশঙ্কা—রাজনৈতিক নেতৃত্বের এই অনমনীয় মনোভাব যেকোনো বড় ধরনের ভুল হিসাব-নিকাশের জন্ম দিতে পারে এবং ইসরাইলি নির্বাচনের ঠিক আগে ইরানের সাথে এক বিপজ্জনক সামরিক সংঘাতের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। এছাড়া সামরিক বাহিনীর অন্দরেও এই আশঙ্কা বাড়ছে যে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য ইরানের ইস্যুটিকে ব্যবহার করা হতে পারে।

এদিকে ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান ১১-এর তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ট সূত্র ও ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে কেবল সামরিক হামলার মাধ্যমে ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব নয়।

তাদের মতে, এ ধরনের অভিযান তেহরানের বর্তমান সরকারকে কিছুটা দুর্বল করতে পারে ঠিকই, কিন্তু এর ফলে সরকারের পতন ঘটবে না।

নিরাপত্তা বাহিনীর এই মূল্যায়নের সাথে নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বক্তব্যের মিল নেই। গত কয়েক দিনে নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি সময়ে মিশন ‘সম্পন্ন‘ করার এবং ইরান সরকারকে উৎখাত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

অথচ এর মাত্র ছয় মাস আগেই নেতানিয়াহু মন্তব্য করেছিলেন, ইরান সরকার পতনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টি খোদ ইরানি জনগণের ওপরই নির্ভর করে। সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর