হরমুজ প্রণালী,  সেন্টকম, তেল রফতানি, সহায়তা, উপসাগরীয় দেশ, যুক্তরাষ্ট্র,
হরমুজ প্রণালী দিয়ে একটি ট্যাংকার চলছে ফাইল ছবি। সংগৃহীত

উপসাগরীয় দেশগুলোর ৩ হাজারের বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে সহায়তা করেছে মার্কিন বাহিনী। গত ছয় মাসে হরমুজ প্রণালী পেরোনো জাহাজের ৯৫ শতাংশের বেশি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছেছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

Advertisement

আরব নিউজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) এ খবর জানায়।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, গত গ্রীষ্ম থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর ১৫০ কোটি ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল রফতানিতে সহায়তা করেছে মার্কিন বাহিনী। ইরানের অবরোধ এড়িয়ে এই তেল রফতানি করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।

হরমুজ প্রণালীর প্রধান নৌপথগুলো এখন ইরানের পেতে রাখা সামুদ্রিক মাইনমুক্ত রয়েছে বলে দাবি করেছেন সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সেনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। নৌপথগুলো সচল রাখতে মার্কিন সেনাদের প্রচেষ্টার প্রশংসাও করেন তিনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সঙ্কট তৈরি হয়েছে। বিশ্বে মোট তেল রফতানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। ইরান এই নৌপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে এবং প্রণালী দিয়ে চলাচলের জন্য জাহাজগুলোকে অনুমতি নেয়ার শর্ত দিয়েছে।

চলতি মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরান ‘পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে’। তেহরানের অর্থনীতি ‘পুরোপুরি ধসের দিকে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রুবিও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত। সংঘাত শুরুর আগের সময়ের মতো প্রায় একই পরিমাণ তেল এখন এই পথ দিয়ে বের হচ্ছে। ফলে প্রণালীর ওপর ইরান পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।’

সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে অপরিশোধিত তেল রফতানি যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ে ফিরে আসে। ইরানকে হিসাবে না ধরলে, ওই মাসে অঞ্চলটি থেকে অন্তত ১ কোটি ৬৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রফতানি হয়।