
কোনো পরিস্থিতিতেই মার্কিন সামরিক জাহাজকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদুল্লাহি শনিবার বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এ স্বপ্ন নিয়েই কবরে যেতে হবে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নতুন করে হামলার হুমকি বাড়তে থাকার মধ্যে এ বক্তব্য এলো। এদিকে, তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক সতর্ক করে বলেছেন, চলতি সপ্তাহান্তেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাতে পারে- এ সম্ভাবনা ‘একেবারেই উড়িয়ে দেয়া যায় না’।
তেহরান থেকে এএফপি জানায়, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে আবদুল্লাহি বলেন, ‘কোনো পরিস্থিতিতেই এবং কোনো সময়েই আমরা মার্কিন সামরিক জাহাজকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতে দেব না।’
তিনি বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তার দেশের সশস্ত্র বাহিনীর পারস্য উপসাগরে প্রবেশের দৃশ্য স্বপ্নেই দেখতে হবে। সেই স্বপ্ন নিয়েই তাকে কবরে যেতে হবে।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানি বাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌ-চলাচল সীমিত করে রেখেছে। প্রণালীটি জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ এবং পারস্য উপসাগরে প্রবেশের প্রধান প্রবেশদ্বার।
এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করেছে।
তেহরান প্রণালীটি দিয়ে চলাচলের জন্য জাহাজগুলোকে অনুমতি নিতে বাধ্য করছে। একইসাথে ওমানের উপকূলসংলগ্ন দক্ষিণ দিকের পথ দিয়ে হরমুজ অতিক্রমের চেষ্টা করা জাহাজগুলোকে বারবার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের দাবি, তেহরানের বিবেচনায় ‘অবৈধ’ পথ দিয়ে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করা কয়েকটি ট্যাংকার সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শুক্রবার গার্ডস জানায়, কৌশলগত নৌপথটিতে মাইনের আঘাতে ৪৫ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেলবাহী দুটি সুপারট্যাংকার সাগরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।
গার্ডসের সেপাহ নিউজ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিস্ফোরণ ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে জাহাজ দুটির ইঞ্জিনকক্ষ অচল হয়ে পড়েছে।’
শান্তিকালীন সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হতো।
সূত্র : এএফপি/বাসস
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








