ইরান, রাশিয়া, প্রেসিডেন্ট, আগামী সপ্তাহ,  বৈঠক, মস্কো,
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সংগৃহীত

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগামী সপ্তাহে মস্কোয় বৈঠকে বসছেন। শুক্রবার এ কথা জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

Advertisement

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু জানায়, আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেয়া এক পোস্টে বলেছেন, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের চলতি সপ্তাহে তেহরান সফরের সময় যেসব আলোচনা হয়েছে, মস্কোর বৈঠকে সেগুলোরই পরবর্তী ধাপ এগিয়ে নেয়া হবে।

আরাগচি বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে দুই দেশের প্রেসিডেন্টের অংশগ্রহণে মস্কোয় এসব আলোচনা ও পরামর্শ অব্যাহত থাকবে।’

তিনি জানান, লাভরভের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, বিদ্যমান চুক্তি বাস্তবায়ন এবং ইরান-রাশিয়ার সার্বিক কৌশলগত অংশীদারত্ব আরো জোরদার করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিন্ন স্বার্থ রক্ষা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন।

কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারের উদ্যোগ

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পেজেশকিয়ানের মস্কো সফরের সময় ইরান ও রাশিয়া একটি সার্বিক কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি সই করে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরো ঘনিষ্ঠ করার কাঠামো তৈরি করাই ছিল এ চুক্তির লক্ষ্য।

চুক্তিতে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও পরিবহন খাতে সহযোগিতার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা-সহ আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে দুই দেশ নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগও বজায় রেখেছে।

এদিকে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের এখনো পুরোপুরি মীমাংসা হয়নি। যুদ্ধবিরতি এবং শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হলেও অচলাবস্থা কাটেনি।

এ ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে রয়েছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের প্রশ্ন। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ নিয়ে বিরোধ এখনো মেটেনি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল তৈরি করেছে বলে জানা গেছে।