ড্রোন,  ক্ষেপণাস্ত্র, নয়, নতুন অস্ত্র,  সৌদি আরব, বিরুদ্ধ,  হাউছি,
হাউছিদের গাড়িতে বসানো মেশিনগান ছোড়ার ফাইল ছবি। সংগৃহীত

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রচারযুদ্ধে নতুন কৌশল নিয়েছে ইয়েমেনের হাউছিরা। এবার তাদের হাতিয়ার ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র নয়। বিবৃতি, ভিডিও, গান, বক্তৃতা, এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালীদের পোস্ট ব্যবহার করে সৌদি আরবকে হেয় করার চেষ্টা করছে গোষ্ঠীটি। এ প্রচারের কেন্দ্রে রয়েছে এমন কিছু নথি, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

Advertisement

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর বরাতে এ খবর জানিয়েছে।

হাউছিদের প্রচারের নতুন হাতিয়ার যুক্তরাষ্ট্রের যৌন অপরাধী ও অর্থলগ্নিকারী জেফরি এপস্টিনের নাম এবং তাঁকে ঘিরে প্রকাশিত নথি। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার দফতর কয়েক দফায় এসব নথি প্রকাশ করেছে। এর একাংশে বলা হয়েছে, সৌদি রাজদরবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এপস্টিনকে কাবার গিলাফের নকশা ও আবরণসংবলিত কাপড় পাঠিয়েছিলেন। এ ঘটনাকে সামনে এনে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে হাউছিরা।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন করে সৌদি আরব। সেই সরকারের সঙ্গে গৃহযুদ্ধে লিপ্ত হাউছিরা বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য ছড়িয়ে দিয়ে সৌদি আরবকে তাদের প্রচারের অন্যতম লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।

মক্কা শরীফকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

চলতি গ্রীষ্মে ইয়েমেনের যুদ্ধ আবারো তীব্র হয়ে ওঠে। এরপরই হাউছিদের প্রচারাভিযান জোরদার হয়। নিজেদের ইসলাম ও বিদেশি প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরছে তারা।

গত মাসে সৌদি আরব অভিযোগ করেছিল, হাউছিরা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর চেষ্টা করেছে। হাউছিরা এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে। ইসলামের পবিত্রতম নগরী মক্কায় অবস্থিত পবিত্র কাবা শরীফ  মুসলমানদের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র।

হাউছিদের নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমে দেয়া এক বক্তব্যে গোষ্ঠীটির প্রেসিডেন্ট মাহদি আল-মাশাত বলেন, ‘যারা এপস্টিনকে কাবার গিলাফ দিয়েছিল, তারাই মক্কা শরিফকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।’ দ্য নিউইয়র্ক টাইমস তাঁর এ বক্তব্য উদ্ধৃত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার দফতর চলতি বছরের শুরুর দিকে এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের পর সৌদি কর্মকর্তারা গিলাফ পাঠানোর অভিযোগ কিংবা হাউছিদের বক্তব্য নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

আল-মাশাতের বক্তব্য হাউছিদের বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ইয়েমেনের কৌতুকশিল্পী মুস্তাফা আল-মোমারি এ নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ২৭ লাখের বেশি। ইয়েমেনের একজন ঐতিহ্যবাহী সংগীতশিল্পীও বিষয়ে গান লিখেছেন, জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

প্রচারে সরব প্রভাবশালীরা

২০২৩ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর হাউছিদের ও সৌদি আরবের বিষয়ে নিজের অবস্থান বদলেছেন ইয়েমেনের কৌতুকশিল্পী মুস্তাফা আল-মোমারি। তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচনাও করেছেন।

এপস্টিনের প্রসঙ্গ হাউছিদের নেতা আবদুল মালিক আল-হাউছির বক্তৃতায়ও প্রায়ই উঠে আসে। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে আত্মহত্যা করে এপস্টিনের মৃত্যু হয়েছিল বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে এক বক্তৃতায় আবদুল মালিক আল-হাউছি বলেন, ‘এপস্টিনের নথিগুলোকে গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা দরকার। এসব নথি এমন এক জায়নবাদী আঁতুড়ঘর উন্মোচন করে, যেখানে নেতা ও অভিজাতদের তৈরি করা হয়।’

হাউছিদের এই কৌশল কাজে আসছে বলেই মনে হচ্ছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, অন্তত একটি ঘটনায় এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি নিয়ে নিয়মিত পোস্ট করা জনপ্রিয় ডানপন্থী পডকাস্টার জেক শিল্ডস হাউছিদের দৃঢ়তার প্রশংসা করেছেন।

হাউছিদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের বড় ভক্ত। আমার মনে হয়, তারা বেশ দুর্ধর্ষ।’