ইসরাইলি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান
ইসরাইলি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। সংগৃহীত ছবি

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে কয়েক ডজন ইসরাইলি যুদ্ধবিমান ইরান সীমান্তের কাছাকাছি এসে ফিরে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এর উদ্দেশ্য ছিল সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখানোর জন্য ইরানকে উসকানি দেয়া।

Advertisement

গত বুধবার (২১ অক্টোবর) মার্কিন সূত্রের বরাতে ইসরাইলি গণমাধ্যম চ্যানেল-১২ এ তথ্য জানিয়েছে।

গণমাধ্যমটি জানায়, গত সোমবার দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত এই অভিযান চালানো হয়। এতে কয়েক ডজন যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি ইসরাইলি বিমান বাহিনীর জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও অংশ নেয়।

গণমাধ্যমটির তথ্যমতে, বিমানগুলো সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা অতিক্রম করে ইরান সীমান্তের অত্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছায় এবং এরপর ইসরাইলের দিকে ফিরে আসে।

মার্কিন সূত্রগুলো চ্যানেল ১২-কে জানিয়েছে, ইসরাইল সম্ভবত আশা করেছিল যে ইরানি বাহিনী বিমানগুলোর ওপর গুলি চালাবে, যা পরবর্তীতে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর একটি যৌক্তিক কারণ হতে পারত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন ও ইসরাইলি কর্মকর্তারা এই অভিযানকে একটি ‘প্রতিরোধমূলক মহড়া’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে এই কৌশলের কারণে ইরানের পক্ষ থেকে ভুল হিসাব-নিকাশের ঝুঁকি ছিল, যা সামরিক প্রতিক্রিয়া উসকে দিয়ে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার কারণ হতে পারত।

মার্কিন সূত্রগুলো জানায়, ইসরাইল আগেই ওয়াশিংটনকে এই অভিযানের বিষয়ে জানিয়েছিল। তারা এটিকে নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শন এবং ইরানকে নিবৃত্ত করার লক্ষ্যে একটি সামরিক মহড়া হিসেবে অভিহিত করে।

সূত্রগুলো যোগ করে, ইসরাইল জানত যে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই বিমানগুলোর উপস্থিতি শনাক্ত করতে পারবে।

এই অভিযানের সময় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরাইল সফরে ছিলেন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি ওভদা বিমান ঘাঁটিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজের সাথে বৈঠক করেন।

এদিকে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস বুধবার জানিয়েছে যে, চলতি মাসের শুরুর দিকে নেতানিয়াহু ইসরাইলি সামরিক বাহিনীকে ইরানের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের নতুন অভিযানের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত তিন ব্যক্তির বরাত দিয়ে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থান এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে কয়েক দিনব্যাপী একটি অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছিল সামরিক বাহিনী।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর এই হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার বিরোধিতা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে সেই হামলা বাতিল করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। এর জবাবে ইরান পুরো অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর