হরমুজ, বিস্ফোরণ, ইরান-ইসরাইল সংঘাতের শঙ্কা,  বাড়ল তেলের দাম
হরমুজ প্রণালী। সংগৃহীত

হরমুজের কাছে বিস্ফোরণ, ইরান-ইসরাইল সংঘাতের শঙ্কা, বাড়ল তেলের দামহরমুজ প্রণালীর কাছে নতুন করে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইরানের কর্মকর্তারা ইসরাইলের সাথে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও সক্রিয় রয়েছে।

Advertisement

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক গালফ নিউজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আলোচনা চলছে না। শিগগিরই ‘কিছু একটা ঘটবে’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। এদিকে সৌদি আরবে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ চলছে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়েছে।

ইরান-ইসরাইল সংঘাতের আশঙ্কা

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর পাশের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশে বিস্ফোরণ ঘটেছে। চলতি মাসে ওই এলাকায় এটিই প্রথম বিস্ফোরণের খবর।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাকের গালিবাফের উপদেষ্টা মেহদি মোহাম্মাদি বলেছেন, ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সামরিক সংঘাতের আলামত স্পষ্টভাবে বেড়েছে। দুই পক্ষ সংঘাতের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

মার্কিন ও ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক ডজন ইসরাইলি যুদ্ধবিমান ও জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ৮০০ মাইলের বেশি পথ উড়েছে। বিমানগুলোর যাত্রাপথ ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ সময় সেগুলো সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা অতিক্রম করে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আস্থা তৈরির এবং সমাধানে পৌঁছানোর সদিচ্ছা দেখালে তেহরান কূটনীতির পথ খোলা রাখতে প্রস্তুত। তবে ওয়াশিংটন কূটনীতির বদলে যুদ্ধ বেছে নিলে তা আরো বড় কৌশলগত ব্যর্থতার কারণ হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

 জাহাজে হামলার দাবি আইআরজিসির

ইরানের ইসলামী বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা প্রতিরক্ষানীতি বদলে আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করছে। গেরিলা যুদ্ধের কৌশল ও অতর্কিত হামলার ওপর নির্ভরশীল এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে বাহিনীটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ইরানে হামলা চালানো হলে সংশ্লিষ্ট দেশেও আক্রমণ করা হবে।

আইআরজিসির দাবি, এক রাতেই সাতটি জাহাজে আঘাত হানা হয়েছে। এর মধ্যে চারটি জাহাজ উত্তর-মধ্য উপসাগরে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তরের সময় একযোগে আক্রান্ত হয় এবং আগুন ধরে যায়। বাকি তিনটি জাহাজ হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে মাইনে আঘাত পেয়ে আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

আইআরজিসি অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র জাহাজগুলোকে মাইন পাতা নৌসীমা দিয়ে যেতে উৎসাহিত করছে। এ ধরনের তৎপরতা অব্যাহত থাকলে পুরো অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো পাল্টা হামলার নিশানা হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে তারা।

মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো পাইপলাইন ও বিকল্প পথে রপ্তানি বাড়িয়েছে। তবে সরবরাহে অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি, পরিবহন ও আমদানি করা পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার নির্দেশ দিয়ে নতুন কোনো সরকারি সতর্কতা জারি হয়নি। তবে যাত্রীদের ভ্রমণের আগে ফ্লাইটের সর্বশেষ সময়সূচি নিশ্চিত করতে এবং সরকারি সতর্কতা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।