কাতার-ফ্রান্স, হরমুজ,  খুলতে হবে, গাজা, যুদ্ধবিরতি,
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি-এর পাশে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আস সানি। আল জাজিরা

কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আস সানি  ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ হরমুজ প্রণালীতে অবাধে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ওপর জোর দিয়েছেন। একই সাথে গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার ও সেখানে নির্বিঘ্নে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

Advertisement

আল জাজিরা বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জানায়, দোহায় দুই নেতার বৈঠকের পর কাতার ও ফ্রান্স এক যৌথ বিবৃতিতে এসব আহ্বান জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালীতে কোনো বাধা বা শুল্ক ছাড়াই জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে হবে।

কাতারের মধ্যস্থতাকারী ইব্রাহিম বিন সুলতান আল হাশমি মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো ও হরমুজ প্রণালী আবারো খুলে দিতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও বুধবার বলেন, ‘ইরান কূটনীতিকে আরেকটি সুযোগ দিতে প্রস্তুত।’

যৌথ বিবৃতিতে দুই নেতা ইরানের সামরিক হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘এ অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর ইরানের এসব হামলা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।’


গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের দাবি


গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারে সম্মত ব্যবস্থাগুলো মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন কাতার ও ফ্রান্সের দুই নেতা। একই সাথে কোনো শর্ত বা বিধিনিষেধ ছাড়াই জরুরি মানবিক সহায়তা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে গাজায় পৌঁছানোর তাগিদ দিয়েছেন তাঁরা।

জাতিসঙ্ঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সোমবার জানায়, গাজার প্রায় ১৪ লাখ মানুষ, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ, তীব্র খাদ্যসংকটে রয়েছে। তাদের খাদ্য পরিস্থিতি সংকটজনক বা তার চেয়েও খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

পশ্চিম তীরের কোনো অংশ দখল বা ইসরাইলের ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করার বিরোধিতাও পুনর্ব্যক্ত করেছে ফ্রান্স ও কাতার। একই সাথে ইসরাইলের বসতি স্থাপন নীতি ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে দেশ দুটি।


লেবানন ও সিরিয়া নিয়েও আলোচনা


লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং দেশটি থেকে ইসরাইলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে ত্রিপক্ষীয় কাঠামো চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিয়েছে কাতার ও ফ্রান্স।

জাতিসঙ্ঘের শান্তিরক্ষা মিশনের মেয়াদ শেষ হলে লেবাননে নিরাপত্তাশূন্যতা তৈরির আশঙ্কা নিয়েও সতর্ক করেছে দেশ দুটি। এ পরিস্থিতি এড়াতে লেবাননের কর্তৃপক্ষ ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

সিরিয়ার স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে দেশটির কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে যৌথভাবে বিভিন্ন প্রকল্পে সহায়তা দিতেও প্রস্তুত কাতার ও ফ্রান্স।

আঞ্চলিক বিষয়গুলোর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতেও সম্মত হয়েছে দুই দেশ।

মাখোঁর এবারের আঞ্চলিক সফরে কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও সৌদি আরবও ছিল। কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার করা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং হরমুজ প্রণালীতে অবাধে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় সমর্থন জোগানোই ছিল এ সফরের লক্ষ্য।