ইরানের পতাকা
ইরানের পতাকা। সংগৃহীত ছবি

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামসহ কোনো ধরনের পারমাণবিক উপাদানই ইরানের বাইরে পাঠানো হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই। 

Advertisement

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) তেহরান সফররত পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সাথে বৈঠকে তিনি এ অবস্থানের কথা জানান বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

রেজাই বলেন, ‘একটুখানি সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদানও ইরানের বাইরে যাবে না। এসব উপাদান ইরানের জনগণের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও জাতীয় সম্পদ, যা দেশের অভ্যন্তরেই ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত।’

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন আস্থা তৈরির জন্য কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না। 

ইরানের নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণের মধ্য দিয়েই এই প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে বলেও জানান তিনি।

পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সাথে বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মুখে আলোচনায় বসার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। 

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে নতুন করে মধ্যস্থতার উদ্যোগের অংশ হিসেবে আসিম মুনির তেহরান সফর করছেন।

পেজেশকিয়ান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে হুমকি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। এরপরই কেবল আমরা আলোচনায় বসতে পারি।’

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের জাতি যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে না। জনগণের আশঙ্কা, আলোচনায় বসলে যুক্তরাষ্ট্র আবারো আমাদের ওপর হামলা চালাবে।’

ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সাথে বৈঠকে একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরেন।

গালিবাফ বলেন, ‘নতুন করে বলার মতো আমাদের কিছু নেই। ইরানের নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র আমাদের আস্থা অর্জন করতে পারবে না।’ 

তিনি আরো বলেন, হুমকি ও সামরিক তৎপরতা চালিয়ে ইরানের কৌশলগত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা যাবে না।

ইরান যেসব শর্ত দিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করা এবং দেশটির তেল খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে আকস্মিক হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। ওই সময় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছিল।

জুনে সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে যুদ্ধরত পক্ষগুলো একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়েছিল। তবে সেই সমঝোতা বেশিদিন টেকেনি। এরপর থেকে কার্যত আলোচনা অচলাবস্থায় রয়েছে। জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক পরোক্ষ আলোচনাতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

এর আগে তেহরান জানিয়েছিল, তাদের পারমাণবিক উপাদান অন্য কোনো দেশের কাছে হস্তান্তর করা হবে না। এসব উপাদানের মধ্যে এমন ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা হয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য সাধারণত প্রায় ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন হয়। 

তবে ইরান ইঙ্গিত দিয়েছিল, দেশের ভেতরেই এসব ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধির মাত্রা কমিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টার অভিযোগ এনে দেশটির ওপর বিভিন্ন দফায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে তেহরান দীর্ঘদিন ধরে এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

সূত্র : বাসস