
জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়া এবং পানি ব্যবস্থাপনায় বিশেষজ্ঞ সহায়তা দেয়ার লক্ষ্যে আন্তঃসরকারি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ ফোরামের অংশীদার হয়েছে ইসরাইল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার (২১ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক জোরদার করেছে ইসরাইল। গত মাসে ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র নাউরু জেরুসালেমে দূতাবাস খুলেছে। পবিত্র এই নগরীতে ইসরাইলের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করা অল্প কয়েকটি দেশের তালিকায় যুক্ত হয়েছে দেশটি।
জেরুসালেমে দূতাবাস থাকা জাতিসঙ্ঘের মাত্র সাতটি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে পাপুয়া নিউগিনি ও ফিজিও রয়েছে। এই তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রও রয়েছে। এ বছরের শেষ দিকে সামোয়ারও তাদের সাথে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে।
১৮টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ ফোরাম ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ ৩০টি দেশ ও সংস্থা ফোরামটির তথাকথিত উন্নয়ন অংশীদার।
প্রভাবশালী দেশগুলো যখন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত, তখন গত মাসে ফোরামের নেতারা অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোর সাথে অংশীদারত্বের কাঠামো সংস্কারে সম্মত হন। নতুন কাঠামোয় কৌশলগত অংশীদার ও খাতভিত্তিক অংশীদার— এই দুই শ্রেণি রাখা হয়েছে।
ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটি খাতভিত্তিক অংশীদার হিসেবে ফোরামে যোগ দিয়েছে। এ ঘোষণার সময় ইসরাইলের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা মাসাভের (এমএএসএইচএভি) প্রধান আইনাত শ্লেইন ফিজি ও সামোয়া সফর করেন।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আঞ্চলিক অগ্রাধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে এই সহযোগিতার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পানি ব্যবস্থাপনা, সমুদ্রের পানি লবণমুক্তকরণ, কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়া, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নে ইসরাইলের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে।’
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে পাঠানো অনুরোধে ফোরাম তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
গত জুনে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার ফিজির রাজধানী সুভায় ফোরামের সদর দফতর পরিদর্শন করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশগুলোর সাথে সম্পর্ক জোরদার করা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অগ্রাধিকারগুলোর একটি।’
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে চলতি বছরের শুরুতে ফিজিতে দূতাবাস খুলেছে ইসরাইল। দূতাবাসটি ইসরাইলের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আরো নয়টি দ্বীপরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক রক্ষার দায়িত্বও পালন করছে।’
ফোরামটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক বিবৃতিতে জানায়, মাসাভের প্রধান শ্লেইনের সাথে বৈঠকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলো তাদের উন্নয়ন-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছে।
পাশাপাশি জ্ঞান বিনিময় ও অংশীদারত্বের বাস্তব সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলো প্রায়ই ইসরাইলের সবচেয়ে দৃঢ় সমর্থকদের মধ্যে নিজেদের অবস্থান প্রমাণ করেছে।
এ অঞ্চলের অনেক মানুষের মধ্যে ওল্ড টেস্টামেন্টে বর্ণিত ভবিষ্যদ্বাণীর প্রতি গভীর বিশ্বাস রয়েছে। ওই ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, ইহুদিরা একদিন ইসরাইলের ভূখণ্ডে ফিরে আসবে।
সূত্র : বাসস
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








