হরমুজ প্রণালী
হরমুজ প্রণালী। সংগৃহীত ছবি

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের সময় তিনটি তেলবাহী জাহাজ সমুদ্রে পেতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। 

Advertisement

সংস্থাটির দাবি, তেহরানের বিবেচনায় অবৈধ পথে প্রণালীটি অতিক্রমের চেষ্টা করায় জাহাজ তিনটি মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আইআরজিসি মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) তাদের সরকারি সংবাদমাধ্যম সেপাহ নিউজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণাংশে একটি অবৈধ প্রবেশপথে তাদের নৌবাহিনীর সদস্যদের পেতে রাখা মাইনে আঘাত লেগে দু’টি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায়। পরে জাহাজ দু’টি থেমে যায়।

পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত আরেক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণে একটি নৌমাইনে আঘাত লেগে তৃতীয় একটি তেলবাহী জাহাজেও বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, জাহাজটিতে ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল ছিল। জাহাজটি তার সব রাডার ও নৌচলাচল-সংক্রান্ত ব্যবস্থা বন্ধ করে রেখেছিল বলেও দাবি করেছে ইরানি বাহিনী।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ওমানের উপকূলঘেঁষা দক্ষিণ দিকের পথ দিয়ে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করা জাহাজগুলোকে বারবার লক্ষ্যবস্তু করেছে ইরানি বাহিনী।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে এ সংঘাত শুরু হয়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা নিহত হন।

এরপর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই পানিপথে অবরোধ আরোপের চেষ্টা করছে ইরান। দেশটির দাবি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের আগে সব জাহাজকে ইরানের অনুমতি নিতে হবে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।

এর জবাবে ইরানের বন্দর ও জাহাজ চলাচলের ওপর পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে, মঙ্গলবার ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলি আবদোল্লাহি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল সামরিক সরঞ্জামকে লক্ষ্যবস্তু করতে কম খরচের অস্ত্র ব্যবহার করছে তার দেশ।

তিনি বলেন, ‘শত্রুপক্ষ আরো কোনো ভুল করলে আমরা স্বল্পমূল্যের, কিন্তু কার্যকর বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে তাদের ব্যয়বহুল ও অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জামের কার্যকারিতা নষ্ট করে দেবো।’

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টাকারী জাহাজগুলোর ওপর হামলার ঘটনা বেড়েছে। 

আরো বেশি জাহাজকে প্রণালী পার হতে নিরাপত্তা দিয়ে এগিয়ে নিতে চাইছে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে, জাহাজ চলাচলের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চাইছে তেহরান।

গত কয়েক দিনেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই পানিপথে একাধিক তেলবাহী জাহাজ মাইনে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।

সূত্র : বাসস