
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের উদ্যোগ নিয়েছে রাশিয়া। এর অংশ হিসেবে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সোমবার ইরান সফরে যাচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এটিই তার প্রথম ইরান সফর।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই রোববার এ সফরের তথ্য জানান। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে ‘আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি’ নিয়ে আলোচনা হবে।
সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাথে ল্যাভরভের বৈঠকের কথা রয়েছে। ল্যাভরভ বলেন, মস্কোর প্রচেষ্টার লক্ষ্য হলো ‘বড় ধরনের যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো।’
এদিকে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা থেমে আছে।
এর আগে অক্টোবরের শুরুতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে জানান, মস্কো মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায় অবদান রাখতে প্রস্তুত রয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা দেশগুলোর মধ্যে রাশিয়া ও ইরান অন্যতম। দেশ দু’টির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর থেকে তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরো বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়।
এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি এবং জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও হরমুজ প্রণালী ও এর আশপাশে সংঘাত থামেনি।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের বলে দাবি করে ইরান। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট হাইড্রোকার্বন সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের অনুমতি ছাড়া এই নৌপথ অতিক্রমকারী জাহাজকে দেশটি নিয়মিত নিশানা করছে।
এর জবাবে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে নৌপথে পাল্টা অবরোধ বজায় রেখেছে ওয়াশিংটন।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ল্যাভরভের সফরে আলোচনার মূল বিষয় হবে ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বেআইনি হামলার ফলে সৃষ্ট তীব্র আন্তর্জাতিক সঙ্কট নিরসনের উপায়।’
মন্ত্রণালয়টি আরো বলেছে, এই যুদ্ধ শুধু নিকটপ্রাচ্য ও মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের আঘাত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র : এএফপি/বাসস
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








