এডেন, বিমানবন্দর, ক্ষেপণাস্ত্, হাউছি, ইয়েমেন, তাইজ, মারিব,
হাউছি ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শনীর ফাইল ছবি। সংগৃহীত

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার জানিয়েছে, হাউছিরা দেশটির এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর এক দিন আগে বন্দরনগরী এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ লক্ষ্য করে হামলা চালায় তারা। নতুন এই হামলার মধ্য দিয়ে গৃহযুদ্ধকবলিত দেশটিতে সংঘাত আরো তীব্র হয়ে উঠেছে।

Advertisement

আল জাজিরা শনিবার (১৭ অক্টোবর) জানায়, শুক্রবার এডেন বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি আঘাত হানে। ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মুয়াম্মার আল-এরিয়ানি বলেন,উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল এমন একটি উড়োজাহাজ থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি পড়ে। তবে উড়োজাহাজটির কোনযাত্রী বা ক্রু আহত হননি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বার্তায় আল-এরিয়ানি বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে’ সম্ভাব্য ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় এড়ানো গেছে। বিমানবন্দরে হামলাকে তিনি আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির গুরুতর লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন।

তবে হাউছিরা এক বিবৃতিতে জানায়, শুক্রবার তারা এডেন প্রদেশের বদর শিবিরে সৌদি বাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর এবং একটি অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ইয়েমেনে সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট সরকারি বাহিনী ও ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হাউছিদের মধ্যে নতুন করে তীব্র লড়াই চলছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সদর দপ্তর এডেনে সর্বশেষ হামলাটি এই সংঘাতেরই অংশ।

এদিকে, শুক্রবার ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, রাজধানী সানার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত মারিব প্রদেশের পূর্বাঞ্চলে তারা অগ্রগতি অর্জন করেছে। সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আল-নাজিলি বলেন, বিমান সহায়তা নিয়ে সরকারি বাহিনী সেখানে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অবস্থান দখলে নিয়েছে এবং নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার পরিধি বাড়িয়েছে।

আল-নাজিলির দাবি, ২৪ ঘণ্টায় সরকারি বাহিনী ৪৩০ জনের বেশি হাউছি যোদ্ধাকে নিষ্ক্রিয় করেছে। একই সময়ে হাউছিদের শতাধিক যানবাহন ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করেছে অথবা ব্যবহারের অযোগ্য করে দিয়েছে তারা।

যুদ্ধের আরেক গুরুত্বপূর্ণ রণক্ষেত্র তাইজ প্রদেশেও সরকারি বাহিনী বড় ধরনের কয়েকটি হাউছি হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে। এসব সংঘর্ষে হাউছিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি তাদের। তাইজ এলাকায় হাউছিদের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি বিশেষায়িত ড্রোন পরিচালনাকারী দলকে আটক করার কথাও জানিয়েছে সরকারি বাহিনী।

গত কয়েক সপ্তাহে হাউছিরা ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম নগরী তাইজ ঘিরে ফেলেছে। শহরটির দক্ষিণে এডেনের সাথে সংযোগকারী প্রধান সড়কটি বন্ধ করে দেয়ায় বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। এতে আগে থেকেই ভয়াবহ মানবিক সংকটে থাকা ইয়েমেনের পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়ে পড়েছে।