
ইয়েমেনের হাউছি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ইসরাইলের অংশ নেয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সৌদি আরবের সম্মতি আদায়ের চেষ্টা করেও সফল হয়নি ইসরাইল। সৌদি জনগণের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় ইসরাইলের সামরিক সহায়তা নিতে চান না যুবরাজ।
পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জানায়, ইসরাইলি সংবাদপত্র হারেৎজ সোমবার এ খবর প্রকাশ করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, সৌদি আরবের সাথে সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করতে চায় ইসরাইল। এর মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তির পথ তৈরি হবে বলে আশা করছে তেল আবিব। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইসরাইলের সাথে সৌদি আরবের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান, বিশেষ করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে রাজি নয় রিয়াদ।
এদিকে সৌদি আরবে হাউছিদের হামলা বেড়েই চলেছে। শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। রোববার একই বিমানবন্দরে আরেক হামলায় এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং ১১ জন আহত হন।
নিরাপত্তার কারণে বিমানবন্দর বন্ধ রাখার মেয়াদ শনিবার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। হামলার কারণে বিভিন্ন বিমান সংস্থা সৌদি আরবগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে। সোমবার হাউছিরা রিয়াদের বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করে। এর কিছুক্ষণ আগে সৌদি আরব জানায়, তারা রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। হাউছিরা দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খামিস মুশাইতের একটি বিমানঘাঁটিতেও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানায়নি।
হামলার প্রভাব পড়েছে ইউরোপ ও এশিয়ার বিমান চলাচলেও। বিভিন্ন বিমান সংস্থা ফ্লাইট স্থগিত করেছে। সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন দেশটির বিমান সংস্থাগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিমান চলাচল নিরাপত্তা সংস্থাও সৌদি আরবের আকাশসীমা নিয়ে সতর্কতা বাড়িয়েছে।
বিমান চলাচল নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান অপসগ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জি বলেন, বেসামরিক বিমান চলাচলে এভাবে টানা তীব্র হামলা নজিরবিহীন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ঝুঁকি বিবেচনার ধরন নতুন করে ভাবতে হবে এবং সতর্কতার সাথে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বিমান চলাচলের তথ্য পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার উড়োজাহাজগুলো রিয়াদের আকাশ এড়িয়ে চলেছে। তবে সৌদি আরবের আকাশসীমা দিয়ে উড়োজাহাজ চলাচল এবং পশ্চিম উপকূলের প্রধান বিমানবন্দর জেদ্দায় অবতরণ অব্যাহত ছিল। বিমান চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের হিসাবে, সৌদি আরবের সব বিমানবন্দর মিলিয়ে ফ্লাইট বাতিলের হার দাঁড়িয়েছে ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশে।
ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন বিমান সংস্থা ফ্লাইট স্থগিত করেছে। লুফথানসা গ্রুপ ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। এয়ার ফ্রান্স-কেএলএম মাসের শেষ পর্যন্ত রিয়াদগামী ও রিয়াদ থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে। ইতিহাদ এয়ারওয়েজ ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত আবুধাবি-রিয়াদ ফ্লাইট বাতিল করেছে। কাতার এয়ারওয়েজও রিয়াদ ও দাম্মামের ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। ডেল্টা এয়ারলাইনস আটলান্টা থেকে রিয়াদে নতুন ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা পিছিয়ে ২০২৭ সালের মার্চে নিয়েছে।
হাউছিদের হামলায় সৌদি আরবের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এ বছর দেশটির প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এর পেছনে তেল খাতে কার্যক্রম কমে যাওয়াসহ একাধিক কারণ রয়েছে। হামলার কারণে রিয়াদে চলতি মাসে অনুষ্ঠেয় সৌদি আরবের প্রধান বিনিয়োগ সম্মেলন এবং বিশ্ব পেট্রোলিয়াম কাউন্সিলের জ্বালানি সম্মেলনও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এসব আয়োজনে কয়েকজন শীর্ষ তেল নির্বাহীর নামও কর্মসূচি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার হাউছিদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু বলেননি। হোয়াইট হাউস থেকে ওহাইও যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হাউছিরা খুবই খারাপ আচরণ করছে। এটা ভালো নয়।’
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








