মার্কিন বাহিনী,ইরানি সীমান্ত,  হটে গেছে , আইআরজিসি, হরমুজ প্রণালী,  
ইরানের আরশ ড্রোন ছোড়ার ফাইল ছবি। সংগৃহীত

দেশটির ইসলামী বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর (আইআরজিসি) সিনিয়র সামরিক উপদেষ্টা ও সাবেক নৌপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী ফাদাভি দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের সীমান্ত থেকে এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। রোববার রাতে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ছিল না; বরং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ও আইআরজিসি পদাতিক বাহিনীর শক্তির মুখে তারা পালিয়েছে।

Advertisement

ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভি সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) জানায়, ফাদাভি জোর দিয়ে বলেন, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালী, ওমান সাগর কিংবা উত্তর ভারত মহাসাগরেও কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ নেই। হরমুজ প্রণালী গত কয়েক মাস ধরে পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পাশাপাশি তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে তাদের কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেনি। তথাকথিত বিশ্ব শক্তি তাদের সব নীলনকশা ব্যর্থ হওয়ার পর এখন পিছু হটে গেছে।

আইআরজিসির এই শীর্ষ উপদেষ্টা জানান, দক্ষিণ হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজগুলোর ক্যাপ্টেনরা এই রুট নিয়ে আপত্তি জানালেও আর্থিক ও বিমা বাধ্যবাধকতার কারণে পার হতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানি বাহিনীর শতভাগ হামলার ঝুঁকি ও চরম বিপদের মুখে রয়েছে। আকাশপথে বোমাবর্ষণ করে এ অঞ্চলে নিজেদের পুরো কর্তৃত্ব বজায় রাখা মার্কিনদের পক্ষে আর সম্ভব নয়; নিজ জলযান ও বাহিনী সরাসরি সরিয়ে নেয়ায় মার্কিনীদের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার ক্ষমতা তাদের এখন শূন্যের কোঠায়।

আঞ্চলিক দেশগুলোকে মার্কিন চাপের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইরান কখনো প্রতিবেশী কোনো মুসলিম দেশে হামলা চালায়নি; বরং সেসব দেশে থাকা মার্কিন ঘাটিতে আঘাত হেনেছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও কোনো স্থল অভিযানের দুঃসাহস দেখায়, তবে তাদের প্রতিটি ঘাঁটি ও জলযানকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। ওমান ও ইরান যৌথভাবে হরমুজ প্রণালীর নিয়ম নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১০ হাজার কিলোমিটার দূর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আদেশ চাপিয়ে দেয়ার দিন ফুরিয়ে গেছে।