ইরান, ক্ষেপণাস্ত্র,  অস্ত্র উৎপাদন সরবরাহ, ব্যবস্থা অটুট, আইআরজিসি,
ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র। সংগৃহীত

ইরানের অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সরবরাহব্যবস্থা পুরোপুরি অটুট রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির ইসলামী বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী বা আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনীর কমান্ডারের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী বালালি।

Advertisement

ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভি রোববার (৪ অক্টোবর) জানায়, শনিবার এক বক্তব্যে বালালি বলেন, প্রতিরক্ষা উৎপাদনের কোনো খাত নিয়েই ইরানের উদ্বেগের কারণ নেই।

তিনি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সব স্থাপনা ও যন্ত্রাংশ ইরানেই তৈরি করা হয়। এগুলো রপ্তানিও করা সম্ভব।

আইআরজিসির এই জ্যেষ্ঠ কমান্ডার বলেন, আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোন উৎপাদন ও মহাকাশ খাতেও নিজেদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইরান এগিয়েছে।

বালালি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শাহেদ-১৩৬ ড্রোন নকল করেছে। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে, বিপুল গবেষণাকেন্দ্র ও থিংক ট্যাংক থাকা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন একই ধরনের ব্যবস্থা তৈরি করতে পারেনি।

তিনি বলেন, 'যতদিন প্রয়োজন, আমরা ততদিন লড়াই চালিয়ে যেতে পারব।'

বালালি জানান, ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নে ইরান নিজস্ব সক্ষমতা ও যুদ্ধক্ষেত্রের প্রয়োজন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণাকে কাজে লাগাচ্ছে। ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ইরান এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বিদেশি সহায়তার আর প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, 'আমরাই এসব ব্যবস্থা তৈরি ও উৎপাদন করি। একই সাথে যুদ্ধক্ষেত্রের প্রয়োজনও বুঝি। তাই আমরা সব সময় নতুন কিছু করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।'

বিদেশি অস্ত্রের ওপর নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে অনেকটাই স্বনির্ভর সামরিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে ইরান। অন্যায্য নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও এই পরিবর্তন দেশটির সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে।

এর আগে শুক্রবার আইআরজিসির উপপ্রধান মেজর জেনারেল মোস্তফা ইজাদি বলেছিলেন, প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বড় ধরনের অগ্রগতি করেছে। পাশাপাশি শত্রুদের জন্য ইরানের হাতে 'চমক' রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ইজাদি আরো বলেন, স্থল, বিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ও নৌ—সব ক্ষেত্রেই ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বড় ধরনের অগ্রগতি করেছে।