
ইসরাইলে অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় সংসদীয় নির্বাচন থেকে বৃহস্পতিবার নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন আরব-ইসরাইলি রাজনীতিক সামি আবু শেহাদেহ।
দেশটির সুপ্রিম কোর্টের অধিকাংশ বিচারক তাকে নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে বিরত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়ার পর সামি আবু শেহাদেহ এ সিদ্ধান্ত নেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে আরব-ইসরাইলি দলগুলো সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জনমত জরিপেও দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট কিংবা প্রধান বিরোধী জোট-কোনোটিই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার মতো অবস্থানে নেই।
জেরুসালেম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
আবু শেহাদেহ বামপন্থী ফিলিস্তিনি দল বালাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি ইসরাইেলের পার্লামেন্ট নেসেটের সদস্য ছিলেন তিনি।
বালাদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দলটির নেতা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও তার রাজনৈতিক লড়াই এখানেই শেষ হচ্ছে না। দলের নেতৃত্বে তিনিই থাকছেন।
গত সপ্তাহে কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের আবেদনের পর ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি আবু শেহাদেহকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করে।
আবু শেহাদেহ একটি নিবন্ধে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে হামাসের হামলাকে ‘গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করার পর এ পদক্ষেপ নেয়া হয়।
তার মন্তব্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়। তবে, ওই হামলাকে সমর্থন করার কথা অস্বীকার করেন আবু শেহাদেহ।
অযোগ্য ঘোষণার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে তার করা আপিলের শুনানি হয় বৃহস্পতিবার। এ সময় আদালত কোনো রায় না দিয়ে স্বেচ্ছায় প্রার্থিতা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেয় সামি আবু শেহাদেহকে।
একইসাথে অধিকাংশ বিচারক তাকে নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে বিরত রাখার পক্ষে বলেও ইঙ্গিত দেয় আদালত।
সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য তাকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সময় দেয়া হয়।
বালাদ বলেছে, আনুষ্ঠানিকভাবে অযোগ্য ঘোষণার সিদ্ধান্ত এড়াতে আবু শেহাদেহের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।
ইসরাইলে কোনো প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণার ঘটনা বিরল। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ঐতিহাসিকভাবে নির্বাচন কমিটি অনুমোদিত অধিকাংশ নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেছে।
ইসরাইলি আইনে কোনো প্রার্থীকে কেবল তখনই নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা যায়, যদি তিনি ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইলের অস্তিত্ব অস্বীকার করেন অথবা কোনো শত্রু রাষ্ট্র বা সন্ত্রাসী সংগঠনের পক্ষে দেশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামকে সমর্থন করেন।
আবু শেহাদেহের পক্ষে থাকা ইসরাইলি মানবাধিকার সংগঠন আদালাহ অভিযোগ করেছে, তাকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারে চাপ দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কার্যত তাকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করেছে।
এএফপিকে দেয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে ‘সুপ্রিম কোর্ট তাকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়ায় একজন ফিলিস্তিনি নেতাকে ইসরায়েলের নেসেট নির্বাচনের প্রার্থিতা থেকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে’।
আদালত বলেছে, মানবাধিকারকর্মী, আইনপ্রণেতা ও দলীয় নেতা হিসেবে আবু শেহাদেহের কয়েক দশকের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ‘যেকোনো ধরনের সহিংসতার প্রতি তার ধারাবাহিক ও দ্ব্যর্থহীন বিরোধিতা’ স্পষ্ট হয়েছে।
এটি ‘ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্ব ও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকারের ওপর গুরুতর আঘাত’ বলেও সংগঠনটি মন্তব্য করেছে।
আবু শেহাদেহ ছাড়াও গত সপ্তাহে নির্বাচন কমিটি দু’টি আরব নির্বাচনী জোটকে নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে বিরত রাখে। সেগুলো হলো ইউনাইটেড আরব লিস্ট এবং জয়েন্ট লিস্ট। তিন দলীয় জয়েন্ট লিস্টে বালাদও ছিল।
এসব দলের আপিলের শুনানি শুক্রবারও চালিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের।
ইসরাইলি আরব নাগরিকরা ‘ফিলিস্তিনি নাগরিক’ হিসেবেও পরিচিত। তারা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ। তাদের অধিকাংশই নিজেদের ফিলিস্তিনি হিসেবে পরিচয় দেন।
১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর দেশটির সীমানার মধ্যে থেকে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের বংশধর তারা। ইসরাইলে সংখ্যাগরিষ্ঠ ইহুদি জনগোষ্ঠীর তুলনায় তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। বাসস
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








