যুক্তরাষ্ট্র, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প,  ইরানের বিরুদ্ধে, যুদ্ধ, আমিরাতে, উড়োজাহাজ, ছিনতাইয়, নীলনকশা, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী,  ইরানি সূত্র,
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সংঘাত উসকে দিতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সেই যুদ্ধে জড়াতে এক সাজানো বিমান ছিনতাইয়ের নীলনকশা এঁকেছিলেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এমনই দাবি করেছে ইরানি সূত্র।

Advertisement

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেসটিভি এক প্রতিবেদনে জানায়, তেল আবিবগামী সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের নাটক সাজানোর পরিকল্পনা করেন নেতানিয়াহু। সম্প্রতি দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইট সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করার পেছনে এই পরিকল্পনারই যোগসূত্র রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের ইংরেজি সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন ও ইরানের ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভির প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি অজ্ঞাতনামা আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, এই ঘটনার তিন দিন আগে আবুধাবিতে গোপন সফর করেন নেতানিয়াহু। সেখানে ইসরাইলের জ্যেষ্ঠ সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে তিনি আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং কয়েকটি আরব দেশের কর্মকর্তাদের সাথে বহুপক্ষীয় বৈঠক করেন।

ওই বৈঠকেই এমন এক অভিযানের ছক আঁকা হয়, যার দায় সরাসরি ইরানের ওপর চাপানো যায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আমিরাত থেকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের দিকে রওনা হওয়া একটি উড়োজাহাজে ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে সেটিকে সৌদি আরবে নামানোর কথা ছিল।

 ক্ষমতার টিকে থাকার মরিয়া চেষ্টা?

প্রেসটিভির সূত্রের দাবি, নেতানিয়াহুর এই কৌশলের মূল লক্ষ্য ছিল ট্রাম্প প্রশাসনকে আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধে নামানো। আসন্ন ইসরাইলি নির্বাচনে নিজের রাজনৈতিক জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার শঙ্কাই তাকে এই ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষমতা হারালে নেতানিয়াহুকে আদালতের মুখোমুখি হতে এবং বাকি জীবন কারাগারে কাটাতে হতে পারে বলেও দাবি করে সূত্রটি।

অভিযোগে আরো বলা হয়, নিজের নাজুক রাজনৈতিক অবস্থান সামাল দিতে হোয়াইট হাউসের ওপর নিজের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে এক দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে চাইছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী।

তবে প্রেসটিভি এই গুরুতর দাবির পক্ষে কোনো সরাসরি প্রমাণ পেশ করেনি, এমনকি সূত্রের নামও প্রকাশ করেনি। ইসরাইল, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

 ককপিটে ঝামেলা, ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট জরুরি অবতরণ

গত বুধবার ১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের 'এফজেড ১০৭৩' ফ্লাইটটি সৌদি আরবের তাবুক শহরে প্রিন্স সুলতান বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।

ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজ

 

সংস্থাটি জানিয়েছে, ককপিটের ভেতরে বিশৃঙ্খলা ও বিরোধের জেরে কর্মীরা বাধ্য হয়ে নিকটস্থ বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি অবতরণ করান। সৌদি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ককপিটে মারামারির ঘটনায় ফ্লাইটের ক্যাপ্টেন ও ফার্স্ট অফিসার আহত হন এবং তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে যাত্রী ও কেবিন ক্রুরা নিরাপদ ছিলেন।

ঘটনার তদন্তে নেমেছে সৌদি আরবের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা কেন্দ্র। নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ইসরাইলগামী ও ইসরাইল থেকে আসা তাদের সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছে ফ্লাইদুবাই।

 আমিরাত সফর নিয়ে ইরানের কড়া হুশিয়ারি

উড়োজাহাজ কাণ্ডের কয়েক দিন আগেই নেতানিয়াহুর আমিরাত সফর নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল তেহরান। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি এক বার্তায় সতর্ক করে বলেন, আমিরাতে মার্কিন ঘাঁটি থাকা যেমন দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি, তেমনি ‘গাজার কসাই’ নেতানিয়াহুকে স্বাগত জানানোর পরিণতিও ভালো হবে না।

তিনি আবুধাবিকে আগের সংঘাত থেকে শিক্ষা নিয়ে আঞ্চলিক শান্তি নষ্ট না করার এবং পারস্য উপসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ভিত্তিহীন দাবি বন্ধের আহ্বান জানান।

একই সাথে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নেতানিয়াহুর সফরকে "শিশুহত্যাকারী ও যুদ্ধবাজের উপস্থিতি" হিসেবে আখ্যা দিয়ে জানায়, এ ধরনের উসকানিমূলক পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলের শান্তি ও যৌথ নিরাপত্তার জন্য গভীর হুমকি ডেকে আনবে।