হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো। সংগৃহীত ছবি

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনায় একটি বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে ড্রোন হামলায় ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হাউছিদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জোটটি এ অভিযোগ করে। 

Advertisement

এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠান। তবে হাউছিরা এ হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সৌদি জোটের দাবি, গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভোর ৫টা ১১ মিনিটে মদিনার তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে একটি ড্রোন আঘাত হানে। ওই কেন্দ্র থেকে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেন, তদন্ত এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণ করে তারা হাউছিদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছেন।

তবে হামলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়েনি। জোটের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি ট্রান্সফরমার সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

আল-মালিকি বলেন, মদিনার বেসামরিক অবকাঠামো এবং মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী স্থাপনায় হামলা সৌদি আরবের পবিত্র স্থানগুলোকে লক্ষ্য করে হাউছিদের কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা।

এদিকে মদিনায় হামলার অভিযোগের মধ্যেই ইয়েমেনে লড়াই আরো তীব্র হয়েছে।

বার্তাসংস্থা এএফপির সাংবাদিকরা জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাউছিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা রাজধানী সানায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা সানা, সাদা ও তাইজে হাউছিদের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্রের দাবি, সানায় তারা একটি ‘উচ্চমূল্যের লক্ষ্যবস্তুতে’ অভিযান চালিয়েছে। 

সানায় ১১টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এছাড়া তাইজে হাউছিদের একটি ‘সমন্বিত সামরিক ব্যবস্থার’ ওপর ২৭টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে ওই মুখপাত্র দাবি করেন।

হাউছিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং লোহিত সাগর উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে।

২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরব হস্তক্ষেপ করার পর থেকে হাউছিরা বিভিন্ন সময়ে সৌদি আরবের লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে।

তবে মদিনা ও ইসলামের অন্যান্য পবিত্র স্থানকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল।

বৃহস্পতিবার হাউছিদের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা আবারো অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের সংগঠন ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি। 

হাউছিদের গণমাধ্যমে ওই বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে।

মদিনায় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হাউছিদের হামলায় তারা নিন্দা জানায়। এ ধরনের হামলা সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং ইসলামী বিশ্বের পবিত্র মূল্যবোধের ওপর আঘাত। 

দেশটি অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে এবং সৌদি আরবের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

কাতারও হামলার নিন্দা জানিয়েছে। দোহার ভাষ্য, এটি ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদার ওপর গুরুতর আঘাত এবং সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

কাতার সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে বলেছে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।

আরব লীগের পক্ষ থেকেও ঘটনার নিন্দা জানানো হয়েছে। সংগঠনটি হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে। 

তারা বলেছে, এ ধরনের ঘটনা বিশ্বের মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এবং পরিস্থিতির বিপজ্জনক অবনতি ঘটাতে পারে।

কায়রোভিত্তিক সুন্নি ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল-আজহারও ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, মদিনাকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা বিশ্বের মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে।

সূত্র : বাসস