মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, টেনেসি, অঙ্গরাজ্যে, প্রাণঘাতী,  ইনজেকশন,  মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত, ক্রিস্টা পাইক,
টেনেসির নক্সভিলে আদালতে ক্রিস্টা পাইক। দ্য গার্ডিয়ান

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী বিষাক্ত ইনজেকশনের দুটি ডোজ দেয়ার পরও প্রাণে বেঁচে গেছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক নারী। ক্রিস্টা পাইক নামের ৫০ বছর বয়সী ওই নারীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

Advertisement

৩০ বছর আগে এক সহপাঠীকে হত্যার দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল। গত বুধবার রাতে বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগের পরও তাকে শ্বাস নিতে দেখা যায়। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জানায়, চলতি বছর টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে গিয়ে ব্যর্থ হওয়ার এটি দ্বিতীয় ঘটনা।

ক্রিস্টা পাইকের আইনজীবীরা স্থানীয় এক টেলিভিশনকে জানান, এই ঘটনা পাইকের জন্য চরম যন্ত্রণাদায়ক ছিল। নিষ্ঠুর ও অস্বাভাবিক শাস্তি না পাওয়ার অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন এই ঘটনা। পরে টেনেসি কারাগার বিভাগ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তাকে একটি হাসপাতালে পাঠায়।

কারাগারে উপস্থিত সাংবাদিকেরা জানান, ইনজেকশনের মাধ্যমে বিষাক্ত রাসায়নিক দেওয়ার ৪০ মিনিট পরও পাইককে নাক ডাকতে দেখা যায়। তিনি তখনও স্পষ্টভাবে বেঁচে ছিলেন।

এই ব্যর্থতার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি চলতি বছরের জন্য সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত ঘোষণা করেছেন। একই সাথে পুরো ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

১৯৯৫ সালে নক্সভিলের একটি কারিগরি স্কুলে পড়ার সময় ক্রিস্টা পাইক ও তার প্রেমিক মিলে সহপাঠী কলিন সেলেমারকে হত্যা করেন। প্রেমের বিরোধের জের ধরে ১৯ বছর বয়সী ওই তরুণীকে নির্জন এলাকায় ডেকে নেওয়া হয়। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ও পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে তাকে হত্যা করা হয়।

ঘটনার সময় পাইকের বয়স ছিল ১৮ বছর। তৎকালীন প্রেমিক কম বয়সী হওয়ায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পান। তবে পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। দীর্ঘ ২০০ বছরের মধ্যে তিনিই হতেন টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া প্রথম কোনো নারী।

পাইক পরবর্তীতে মানসিক রোগে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হন। তিনি নিজের অপরাধের জন্য অনুশোচনাও প্রকাশ করেছিলেন। দুইবার চেষ্টা করেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়ায় পুরো ঘটনাটি নিয়ে এখন নতুন করে আইনি বিতর্ক শুরু হয়েছে।