
জানুয়ারিতে উত্তাল সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। দেশটির বিচার বিভাগ এ তথ্য জানায়।
অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিবাদে এক মাস আগে ওই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল।
বিচার বিভাগের মিজান অনলাইন ওয়েবসাইট জানায়, আলী হেম্মাতি ও মাজিদ নিক-আন্দিশকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে ‘জানুয়ারির দাঙ্গায়’ জড়িত থাকার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ওই ঘটনায় চার নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন।
ওয়েবসাইটটি আরো জানায়, তারা দোকান, ব্যাংক, বাস ও বিভিন্ন স্থাপনে আগুন দিয়ে সরকারি সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। এমনকি গাছেও আগুন ধরিয়ে দেন।
সুপ্রিম কোর্ট তাদের সাজা বহাল করার পর বুধবার ভোরে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
ডিসেম্বরের শেষ দিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা দ্রুত সরকারবিরোধী ব্যাপক আন্দোলনে রূপ নেয়। ৮ ও ৯ জানুয়ারি এই বিক্ষোভ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই সহিংসতায় তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তারা এ সহিংসতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পরিকল্পিত ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে’ দায়ী করেছে।
তবে বিদেশভিত্তিক বেসরকারি সংস্থাগুলো বলছে, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছে।
তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ হামলা শুরু করে ইরানে । এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়।
এরপর থেকে দেশটিতে গ্রেফতার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বেড়েছে। এসবের সাথে যুদ্ধ এবং বছরের শুরুর দিকের বিক্ষোভ—উভয়েরই যোগসূত্র রয়েছে।
ইরান হিউম্যান রাইটস ও টুগেদার এগেইনস্ট দ্য ডেথ পেনাল্টি নামের দু’টি বেসরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানে কমপক্ষে এক হাজার ৬৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ১৯৮৯ সালের পর কোনো এক বছরে এটিই দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সর্বোচ্চ সংখ্যা এটি।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, চীনের পর সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা দেশ ইরান।
সূত্র : বাসস
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








