ফ্লাই দুবাই, ইসরাইলি কর্মকর্তারা, পাইলট,  ঝগড়া, মারামারি, ককপিট,  জরুরি সংকেত,
ফ্লাই দুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজ। সংগৃহীত

দুবাই থেকে ইসরাইলের তেল আবিবগামী সংযুক্ত আরব আমিরাতের বা ইউএই ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজে দুই পাইলটের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে ছিনতাইয়ের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উড়োজাহাজটিতে ১৫০ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে ১০০ জনই ইসরাইলি। পরে উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাবুকে জরুরি অবতরণ করে।

Advertisement

ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেস টিভি বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জানায়, ফ্লাইট এফজেড১০৭৩ দুবাই থেকে তেল আবিব যাওয়ার পথে প্রথমে জরুরি সংকেত ৭৭০০ পাঠায়। পরে কিছু সময়ের জন্য ৭৫০০ সংকেত পাঠানো হয়।  বেআইনি হস্তক্ষেপ বা উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের আশঙ্কা দেখা দিলে আন্তর্জাতিকভাবে এই সংকেত ব্যবহার করা হয়।

এতে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ যুদ্ধবিমান পাঠায়। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক করেন। একই সময় অধিকৃত ভূখণ্ড অর্থাৎ ইসরাইলের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়া হয়।

পরে উড়োজাহাজটির গতিপথ বদলে সৌদি আরবের তাবুকের দিকে নেয়া হয়। সেখানে এটি নিরাপদে অবতরণ করে।

ইসরাইলি কর্মকর্তারা পরে জানান, দুই পাইলটের মধ্যে ঝগড়ার কারণেই জরুরি সংকেত সক্রিয় হয়েছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, ককপিটে তাদের মধ্যে মারামারিও শুরু হয়েছিল। এ সময় উড়োজাহাজটির গতিপথ বদলে যায় এবং জরুরি সংকেত পাঠানো হয়।

ইউএই ও ইসরাইলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরু হয় ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। ওই দিন তারা তথাকথিত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে সই করে। এরপর বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন, প্রযুক্তি ও পরিবহনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক বাড়তে থাকে।

ইউএই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গাজায় গণহত্যা চলার মধ্যেও ২০২৫ সালে দুই দেশের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৩.২০৯ বিলিয়ন ডলার। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত দুই দেশের মোট পণ্য বাণিজ্য ছিল প্রায় ১৪.৫৩ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে দুই দেশের মধ্যে যাত্রী চলাচল ছিল প্রায় ১৫ লাখ ৩০ হাজার।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি আগ্রাসনের সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি স্থাপনা রক্ষায় ইসরাইল ইউএইতে একটি আয়রন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং কয়েক ডজন সেনা মোতায়েন করেছিল।

নেতানিয়াহুর সর্বশেষ সফরটি হয় জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে ২৪ সেপ্টেম্বর তার ভাষণের কয়েক দিন পর। ওই ভাষণের সময় ৭৭টি দেশের প্রতিনিধি সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। তবে ইউএইর প্রতিনিধি দল সেখানে থেকে যায়।