শাহিন,রেজায়ি,চোরাবালি, আকাশপথ, অবরোধ, যুদ্ধ, রেজায়ি, শাহিন,
মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি(ডানে) এবং আজারবাইজানের উপপ্রধানমন্ত্রী শাহিন মুস্তাফায়েভ। প্রেসটিভি

ইরানের দেয়া শর্তের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এমন এক সংকটে পড়েছেন, যেখানে আলোচনাও করতে পারছেন না, আবার লড়াইও চালাতে পারছেন না। এ কথা বলেছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ বা এসএনএসসির সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি।

Advertisement

ইরানের ইংরেজি ভাষার চ্যানেল প্রেসটিভি  জানায়, মঙ্গলবার তেহরানে আজারবাইজানের উপপ্রধানমন্ত্রী শাহিন মুস্তাফায়েভের সাথে বৈঠকে এসব কথা বলেন রেজায়ি।

তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প এমন এক  'চোরাবালিতে' আটকা পড়েছেন, যেখান থেকে তিনি আলোচনাও করতে পারছেন না, আবার যুদ্ধও চালাতে পারছেন না। ইরানের শর্ত যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। হতাশ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক যুদ্ধকে আকাশপথ অবরোধের পরিণত করেছে।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলাকে ‘সব আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী’ বলে উল্লেখ করেন রেজায়ি। তিনি বলেন, ইরান দৃঢ় হাতে নিজেদের রক্ষা করেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

এদিকে, কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে  ইরানের সাত দফা প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সে প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইরানের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রস্তাবটিতে মূলত হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর শর্ত তুলে ধরা হয়েছে। আরাগচির ভাষায়, ইরানের শর্ত ‘ন্যায্য ও যুক্তিসংগত’।

গত ১৭ জুন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের আওতায় হরমুজ প্রণালীতে বিধিনিষেধ তুলে নিতে সম্মত হয়েছিল ইরান। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করায় নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয় এবং সমঝোতা ভেঙে পড়ে।

আজারবাইজানের উপপ্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে রেজায়ি বলেন, ইতিহাসে বিদেশি শক্তির উত্থান-পতন ঘটলেও ইরান ও এ অঞ্চলের দেশগুলো টিকে রয়েছে। ককেশাস অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইরান সহায়তা করতে প্রস্তুত। পাশাপাশি এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভবিষ্যৎ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বৈঠকে ইরান-আজারবাইজান সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। মুস্তাফায়েভ দুই দেশের ‘বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম’ সম্পর্কের প্রশংসা করেন। একই সাথে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য আজারবাইজান নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে বলে প্রচারিত জল্পনা নাকচ করেন তিনি।