
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম সোমবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাথে বৈঠকে ইসরাইলের সাথে করা কাঠামোগত চুক্তির আরো বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন।
ইরানের সমর্থনপুষ্ট হিজবুল্লাহ চলতি বছরের মার্চে ইসরাইলে হামলা চালিয়ে লেবাননকে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলে। জবাবে ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে। লেবাননের দাবি, এতে ৪ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় জুন মাসে লেবানন ও ইসরাইল একটি কাঠামোগত চুক্তিতে পৌঁছায়। এতে ইসরাইলি বাহিনীর ধীরে ধীরে প্রত্যাহার এবং হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের কথা বলা হয়। তবে চুক্তির বাস্তবায়ন থমকে আছে।
সালামের দফতর এক বিবৃতিতে জানায়, রুবিওর সাথে বৈঠকে তিনি ত্রিপক্ষীয় কাঠামো বাস্তবায়নের পর্যায়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন এবং পারস্পরিকতা ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের নীতিকে বাস্তব পদক্ষেপ ও মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান ফলাফলে রূপ দেয়ার কথা বলেছেন।’
এর মাধ্যমে লেবাননের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা, লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং দেশটির পুরো ভূখণ্ডে অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে ফিরিয়ে আনার পথ তৈরি হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে ইসরাইলের সাথে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির একমাত্র পথ ত্রিপক্ষীয় কাঠামো বাস্তবায়নে লেবাননের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
তিনি আরো বলেন, ‘হিজবুল্লাহ ও ইরানের প্রভাবমুক্ত একটি সার্বভৌম লেবাননের পাশে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।’
চুক্তির আওতায় লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে দেশটির সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টিও রয়েছে। এ মোতায়েন শুরু হবে ‘পাইলট জোন’ নামে পরিচিত পরীক্ষামূলক কয়েকটি এলাকায়।
চলতি মাসের শুরুতে লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা এসব ‘পাইলট জোনের’ একটি পরিদর্শন করেন। সম্প্রতি ওই এলাকা লেবাননের সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সেখানে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি এবং অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ সরাসরি দেখতে তিনি ওই সফর করেন।
সালাম ‘বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিশ্রুতিগুলো মেনে চলা নিশ্চিত করতে একটি বিশ্বাসযোগ্য যাচাই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার’ আহ্বান জানান। হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার কঠিন দায়িত্বে থাকা লেবাননের সামরিক বাহিনীর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সমর্থনের গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন।
হিজবুল্লাহ অস্ত্র সমর্পণে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। চুক্তি সত্ত্বেও ইসরাইল লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে রেখেছে।
সোমবার লেবানন জানায়, দক্ষিণাঞ্চলীয় মানসুরি শহরে ইসরাইলি সেনাবাহিনী বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানায়, সেখানে তাদের অভিযান শেষ হয়েছে এবং তারা ‘সন্ত্রাসী’ অবকাঠামো ধ্বংস করেছে।
সূত্র : এএফপি/বাসস









