
ইরান পামাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না বলে জানিয়েছেন দেশটির ইসলামী বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র। তিনি বলেছেন, আত্মরক্ষার জন্য ইরান নিয়মিত নতুন অস্ত্র তৈরি করছে এবং বিদ্যমান অস্ত্রের উন্নয়ন ঘটাচ্ছে। সংঘাতের ধরন বদলে গেলে নতুন অস্ত্রও যুদ্ধক্ষেত্রে আনা হবে।
২৭ অক্টোবর ইরানের সংবাদ সংস্থা ইসনা জানায়, বিদেশি গণমাধ্যমের সাথে এক সংবাদ সম্মেলনে আইআরজিসির মুখপাত্র সারদার মোহেবি বলেন, ইরানের পামাণবিকঅস্ত্র অর্জন ঠেকাতেই পামাণবিকসমঝোতা (জেসিপিওএ) করা হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন করেন, ইরান সত্যিই পামাণবিকঅস্ত্র তৈরি করতে চাইলে এবং যুক্তরাষ্ট্র তা ঠেকাতে চাইলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেন ওই সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন? ২৫ বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ইরান কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পামাণবিকঅস্ত্র অর্জন করবে।
তিনি আরো বলেন, শিয়া মুসলমানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ পামাণবিক বোমা তৈরি করাকে হারাম ঘোষণা করেছে।
মোহেবি বলেন, আত্মরক্ষার জন্য ইরান সব সময় নতুন নতুন অস্ত্রের নকশা তৈরি করছে এবং বিরাজমান অস্ত্রের উন্নয়ন ঘটাচ্ছে। দেশ ও জনগণকে রক্ষায় বিশ্বের সব ধরনের প্রযুক্তি কাজে লাগানো হচ্ছে। আত্মরক্ষার উপযোগী অস্ত্রের ব্যাপক উৎপাদনও অব্যাহত থাকবে। সংঘাতের ধরন বদলালে নতুন অস্ত্রও যুদ্ধক্ষেত্রে আনা হবে।
তিনি বলেন, শত্রুপক্ষের হাতে অনেক বিকল্প পরিকল্পনা ছিল এবং এখনো আছে। তারা ভেবেছিল, সামরিক উপস্থিতির মাধ্যমে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করবে। তা পারেনি। এরপর হামলা চালায়। ৪০ দিন ধরে হামলা চালিয়েও পরাজিত হয়েছে। পরে অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও নৌ অবরোধের পথ নেয়। তাতেও সফল হয়নি।
মোহেবির ভাষ্য, এরপর আকাশপথে অবরোধ এবং ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে রাস্তায় দাঙ্গা উসকে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। ইরানের উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে বিদেশি গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সরবরাহের উদ্যোগও নেয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিজেই অস্ত্র দেয়ার কথা স্বীকার করেছিলেন। কিন্তু এসব পরিকল্পনাও সফল হয়নি। শত্রুপক্ষের আরো পরিকল্পনা থাকতে পারে। তবে ইরান সেগুলো সম্পর্কে সচেতন এবং মোকাবিলায় প্রস্তুত।
আইআরজিসির মুখপাত্র আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সেগুলো এখন ব্যবহারের অনুপযোগী। এসব ঘাঁটি পুনর্নির্মাণ করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে না।
তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোও বুঝতে পেরেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি তাদের নিরাপত্তা দেয় না; বরং নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবেশী দেশগুলোতে ঘাঁটি স্থাপন, সামরিক অবকাঠামো নির্মাণ, বিমানবন্দর ও বিপুল অস্ত্রশস্ত্রে লাখ লাখ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। কিন্তু এসব ঘাঁটি নিজেদেরই রক্ষা করতে পারেনি। ফলে আঞ্চলিক দেশগুলোও বুঝেছে, এসব ঘাঁটি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি মার্কিন জনগণের উদ্দেশে বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর প্রস্তুত করা একটি চিঠির বিষয়বস্তু ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, চিঠিটি কোনো প্রচার বা গণমাধ্যমের প্রচারণার কৌশল নয়। এটি যুক্তিনির্ভর, সহানুভূতিশীল ও বাস্তবসম্মত একটি বার্তা। এর উদ্দেশ্য শুধু গণমাধ্যমে প্রচার বা ইরানের অবস্থানের সাথে পরিচিত করানো নয়। বরং মার্কিন জনগণের কাছে ইরানের যুক্তি ও অবস্থান সরাসরি তুলে ধরা।
মোহেবি বলেন, কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা প্রচারমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাময়িক প্রভাব সৃষ্টি করা সম্ভব ছিল। কিন্তু ইরান সৎ, যুক্তিনির্ভর ও বাস্তব উপায়ে মার্কিন জনগণের সাথে কথা বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তার মতে, মার্কিন জনগণ ইরানের যুক্তি ও অবস্থান সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত নন। তাই তাদের সাথে পরিচিতি বাড়াতে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো ইরানের হাতে দেশটির ভেতরে শত শত টেলিভিশন ও বেতার চ্যানেলের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক বার্তা পৌঁছানোর সুযোগ নেই। এ বাস্তবতা বিবেচনায় মার্কিন জনগণের কাছে সরাসরি ও স্পষ্টভাবে নিজেদের বক্তব্য পৌঁছে দিতে চিঠির পথ বেছে নেয়া হয়েছে।









