বাকেই, ইরনা,ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, মধ্যস্থতা, চলমান যোগাযোগ, বিষয়বস্তু, গণমাধ্যম, প্রকাশিত, খবর, ভিত্তিহীন জল্পনা,
সোমবার নিউইয়র্কে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই ইরনার এক সাংবাদিকের সাথে কথা বলছেন। প্রেসটিভি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় চলমান যোগাযোগের বিষয়বস্তু নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে ‘ভিত্তিহীন জল্পনা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই। তিনি বলেছেন, আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে বিস্তারিত কোনো কথাবার্তা হয়নি।

Advertisement

ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভি মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জানায়, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে  নিউইয়র্কে সোমবার ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনাকে এসব কথা বলেন বাকেই। তিনি জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী সোমবার রাতেই ইরানি প্রতিনিধিদলের তেহরানের উদ্দেশে নিউইয়র্ক ছাড়ার কথা।

বাকেই বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সবসময় আন্তরিকতার সাথে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছে। অতিরিক্ত কোনো দাবি বা আগ্রাসনের মুখে ইরানি জনগণের সর্বোচ্চ স্বার্থ রক্ষায় আমরা দৃঢ় ও অবিচল রয়েছি।’

আলোচনার বিস্তারিত নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে নিছক জল্পনা বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিষয়বস্তু নিয়ে কোনো বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সব খবরই ভিত্তিহীন জল্পনা।’

এর আগে সপ্তাহের শুরুতে বাকেই জানিয়েছিলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে কাতারের মধ্যস্থতায় মার্কিন পক্ষের সাথে যোগাযোগ হয়েছে। তবে সেটি সরাসরি আলোচনা নয়। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের শর্তগুলো স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।

ইরানের এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন বন্ধ, নৌ অবরোধ ও অর্থনৈতিক যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের অবরুদ্ধ বা সীমিত করা সম্পদ ছেড়ে দেয়া এবং হরমুজ প্রণালীতে দুই উপকূলীয় দেশের সম্মত নিরাপদ নৌ চলাচল ব্যবস্থা মেনে নেয়া।

ইরানের কর্মকর্তারা বলেছেন, এসব অবস্থান নতুন কিছু নয়। ওয়াশিংটন যাতে বিষয়গুলো নিয়ে অস্পষ্টতা বা বিলম্বের অজুহাত দেখাতে না পারে, সে জন্যই তা আবারো জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও সোমবার নিউইয়র্কে ইরানি সাংবাদিকদের বলেন, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সাথে আরো একটি বৈঠক হয়েছে। একই চ্যানেলে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।

আরাগচি বলেন, ইরান বিচ্ছিন্ন নয় এবং হরমুজ প্রণালীসহ এসব শর্তই পরবর্তী অগ্রগতির ভিত্তি।

ইরানি মুখপাত্রের সর্বশেষ বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল কূটনীতি নিয়ে গণমাধ্যমে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির অবসান ঘটানো। এর মধ্যে রয়েছে যোগাযোগকে গোপন সমঝোতা হিসেবে তুলে ধরা, ইরান যে ছাড় দেয়নি তা দেয়ার কথা বলা এবং সরকারি বক্তব্যের বদলে গুজবকে জায়গা দেয়া।

বাকেইর বক্তব্য অনুযায়ী, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আন্তরিকভাবে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাবে। তবে অতিরিক্ত কোনো দাবি চাপিয়ে দেয়া কিংবা আলোচনার ভাষার আড়ালে আগ্রাসনকে আড়াল করার চেষ্টা মেনে নেবে না। ইরানি জনগণের সর্বোচ্চ স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি কোনো জল্পনার বিষয় নয়।