প্রতীকী, যুক্তরাষ্ট্র, যুদ্ধবিরতি, আলোচনা,শুরু করতে, ইরান, পারমাণবিক কর্মসূচি, ছাড়,
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র প্রতীকী ছবি। সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধবিরতি আলোচনা আবার শুরু করতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ছাড় দেয়ার জন্য তেহরানের ওপর চাপ দিচ্ছেন মধ্যস্থতাকারীরা। তবে এ বিষয়ে আলোচনায় বসতে ইরান এখনো তেমন আগ্রহ দেখায়নি।

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাবিত সাত দিনের যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করার পর নতুন এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ওই প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়া এবং ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নেয়ার কথা ছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ খবর জানিয়েছে।

মধ্যস্থতাকারীরা এ উদ্যোগকে তেহরানের পরমাণু কর্মসূচিতে ছাড় আদায়ের কঠিন চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রোববার বলেছেন, তেহরান আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে নতুন করে সামরিক হামলা হলে জবাব দেয়া হবে।

এনবিসি নিউজকে আরাগচি বলেন, 'যুদ্ধ আবার শুরু হলে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নতুন যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমরা দৃঢ়ভাবে দাঁড়াব। এমনকি তা সর্বনাশা যুদ্ধ হলেও। একই সাথে আমরা কূটনীতির জন্য প্রস্তুত। সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের।'

আরব মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছেন, ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর ইরান কোনো ছাড় দেয়নি। উপসাগরীয় কর্মকর্তাদের মতে, আলোচনা এগিয়ে নিতে হলে আগে যুক্তরাষ্ট্রকেই ছাড় দিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানকারী কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আস সানি বলেছেন, সংঘাতের সমাধান ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। নিউইয়র্কে কাতার ইকোনমিক ফোরামের জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের বিশেষ আয়োজনে তিনি বলেন, 'এই সংঘাত অত্যন্ত জটিল।'

ইরান চায়, জুনে হওয়া সমঝোতা স্মারকে ফিরে যাক যুক্তরাষ্ট্র। এতে হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়া, পরে পরমাণু আলোচনা শুরু, নিষেধাজ্ঞা শিথিল, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের শত শত কোটি ডলার ছাড় এবং মার্কিন অবরোধ তুলে নেয়ার বিষয়গুলো ছিল।

তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প আর ওই সমঝোতায় ফিরতে চান না। বরং ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা আরো কঠোর করেছে এবং অবরোধ বহাল রেখেছে।

আলোচনায় যুক্ত এক জ্যেষ্ঠ মধ্যপ্রাচ্য কর্মকর্তা বলেছেন, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দিতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তির পর ইসরাইল আর হামলা চালাবে না, এ বিষয়ে স্পষ্ট নিশ্চয়তা দিতে হবে।