ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করায় তেলের দাম বাড়ল
হরমুজ প্রণালী। সংগৃহীত

ইরানের দেওয়া সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে সোমবার তেলের দাম ও বন্ডের সুদহার বেড়েছে। 

তবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় শেয়ারবাজারে ছিল মিশ্র প্রবণতা।

গত সপ্তাহে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরান সাত দিনের যুদ্ধবিরতির একটি পরিকল্পনা তুলে ধরে। 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়া হবে। এতে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ সঙ্কটের কারণে বেড়ে যাওয়া পণ্য ও জ্বালানির খরচ কিছুটা কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্ঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। 

এর মধ্যেই ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূল ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দাব প্রণালী হাউছিরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ায় বৈশ্বিক জাহাজ চলাচল পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে পড়েছে।

তবে হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমি তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছি।’

এর পরও অ্যাক্সিওসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের সাথে আলোচনা আবারো শুরু হওয়ার আশা করছেন।

ট্রাম্প আরো বলেন, ‘তারা একটি চুক্তি করতে চায়, কিন্তু তারা যে চুক্তিটি করতে চায়, সেটি আমি করতে চাই না। এক বছর আগে হয়তো আমরা এমন একটি চুক্তিতে রাজি হতাম।’

তিনি আরো বলেন, ‘তারা নিজেদের অবস্থানকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কঠোর করে ফেলেছে।’

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা সোমবার থেকেই শুরু হতে পারে।

তবে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়ার ক্ষেত্রে ইরান এখনো তাদের শর্তগুলো বহাল রেখেছে।
 
এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে- জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেয়া, ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও মার্কিন নৌ অবরোধের অবসান।

ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের খবর প্রকাশের পর শুক্রবার তেলের দাম দুই শতাংশের বেশি কমেছিল। কিন্তু নতুন সপ্তাহের শুরুতে দাম আবার বেড়ে যায়।

আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলারের ওপরে উঠে যায়।

তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে আবারো উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শেয়ারবাজারেও এর প্রভাব পড়েছে ।

দীর্ঘ ছুটির পর সোমবার বাজার খুললে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক দুই শতাংশের বেশি কমে যায়। একইভাবে টোকিও, সাংহাই, ম্যানিলা, ব্যাংকক ও জাকার্তার বাজারেও দরপতন হয়েছে।

তবে হংকং, সিডনি, সিঙ্গাপুর ও ওয়েলিংটনের শেয়ারবাজারে সূচক বেড়েছে।

বিশ্বের বন্ডবাজারেও সুদহার বেড়েছে। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী বন্ডের গড় সুদহার গত সপ্তাহে চার শতাংশের ওপরে উঠে যায়। ২০০৭ সালের পর এই প্রথম তা এতটা বেড়েছে।

তেলের দাম ও অন্যান্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির ফলে এখন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী নীতিনির্ধারণী বৈঠকের দিকে বাজারের নজর আরও বেশি কেন্দ্রীভূত হয়েছে। বৈঠকটি অক্টোবরের শেষ দিকে হওয়ার কথা।

সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের হিসাবে, টানা দ্বিতীয়বার সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৬৫ শতাংশের বেশি বলে বাজারে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে সুদের হার নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চলতি সপ্তাহে বিনিয়োগকারীরা ফেডারেল রিজার্ভের পছন্দের মূল্যস্ফীতি সূচক এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন। এসব তথ্য সুদের হার নির্ধারণে নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কুইনটেক্স ইন্টেলের স্টিফেন ইনেস বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিষয়ে ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আবার বেড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তেলের দাম বেড়েছে, এশিয়ার শেয়ারবাজার দুর্বল হয়েছে এবং শুক্রবার বৈশ্বিক বন্ডবাজারে যে সাময়িক স্বস্তি দেখা গিয়েছিল, তা এখন স্থায়ী স্বস্তির বদলে সাময়িক বিরতি বলেই মনে হচ্ছে।’

তবে ইনেস আরো বলেন, ‘বাজার এখনো এমন একটি সম্ভাবনা ধরে রাখছে যে শেষ পর্যন্ত সবাই আবার আলোচনার টেবিলে ফিরতে পারে।’
সূত্র : বাসস