নেতানিয়াহু, আন নাহিয়ান, অঘোষিত, সফর, রুদ্ধদ্বার বৈঠক, গোপন
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। সংগৃহীত

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি সফর করেছেন। সেখানে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আন নাহিয়ানের সাথে বৈঠক করেন। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের মধ্যে দুই দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ সফর অনুষ্ঠিত হলো।

মিডলইস্ট আই সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এবং ইরানের ইংরেজি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল প্রেসটিভি জানায়, ইসরাইলের ১২ নম্বর টেলিভিশন চ্যানেল, কান, হারেৎজ ও জেরুজালেম পোস্টসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম নেতানিয়াহুর এই অঘোষিত সফরের খবর প্রকাশ করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক জ্যেষ্ঠ ইসরাইলি কর্মকর্তাও সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে রোববার সকালে আবুধাবি পৌঁছে দিনের বেশির ভাগ সময় তিনি আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। সন্ধ্যায় অধিকৃত ভূখণ্ডে ফিরে যান। তবে সফর নিয়ে নেতানিয়াহুর দফতর কিংবা আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুদ্ধের সময় ইসরাইল  সাময়িকভাবে আমিরাতে আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং সেটি পরিচালনার জন্য ইসরাইলি সেনাদের মোতায়েন করেছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়।

সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহুর ভাষণের সময়ও আমিরাতের ঘনিষ্ঠতা প্রকাশ পায়। ইসরাইলের গাজায় গণহত্যা ও ইরানে আগ্রাসনের প্রতিবাদে বহু দেশের প্রতিনিধি অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করলেও আমিরাত ও বাহরাইনের প্রতিনিধিরা সেখানে বসে ছিলেন।

এ বছরের ২৬ মার্চও নেতানিয়াহু গোপনে আমিরাত সফর করেছিলেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। সে সময় ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’ চলাকালে তিনি আল আইন শহরে বিন জায়েদের সাথে বৈঠক করেন। তবে নেতানিয়াহুর দফতর সফরের দাবি করার পরও আমিরাত প্রকাশ্যে বৈঠকের কথা অস্বীকার করেছিল।

২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সম্পাদিত আব্রাহাম চুক্তির আওতায় ইসরাইল ও আমিরাত আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।