
গাজা উপত্যকার মানবিক পরিস্থিতি, পশ্চিম তীরে সহিংসতা এবং ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর সম্প্রসারণবাদী নীতির বিষয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরাসরি সমালোচনায় ক্ষুব্ধ হয়েছে ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর কর্মকর্তারা।
জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে ম্যাক্রোঁর দেয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর কর্মকর্তারা গাজা পরিস্থিতি ও পশ্চিম তীরের ঘটনাবলি নিয়ে তার সমালোচনা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
জাতিসঙ্ঘে দেয়া বক্তব্যে ম্যাক্রোঁ গাজা উপত্যকার মানবিক পরিস্থিতি এবং মানবিক সহায়তা পাঠানোর ক্ষেত্রে বাধার কথা উল্লেখ করে প্রশ্ন করেন, ‘গাজার ব্যাপারে আমরা যদি এভাবেই নিষ্ক্রিয় থাকি, তাহলে আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতার মূল্য কী থাকবে?’
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট পশ্চিম তীরে চলমান সহিংসতারও সমালোচনা করে বলেন, ‘প্রতিদিন পশ্চিম তীর থেকে যেসব লজ্জাজনক ছবি প্রচারিত হচ্ছে, সেগুলোর কি আমরা শুধু দর্শক হয়ে থাকব?’
পশ্চিম তীরে হামাসের উপস্থিতি নেই উল্লেখ করে ম্যাক্রোঁ ওই অঞ্চলে ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের পক্ষে দেয়া নিরাপত্তাগত যুক্তিরও সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ‘পশ্চিম তীরে যা ঘটছে, সেদিকে তাকান। কিসের নামে এসব ঘটনা ঘটছে? হামাস কখনোই এই অঞ্চলে উপস্থিত ছিল না।’
ম্যাক্রোঁর এসব বক্তব্যে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কার্যালয়টি ম্যাক্রোঁর বক্তব্যকে ‘অবাস্তব ও হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেছে এবং দাবি করেছে যে ইসরাইলিদের বিরুদ্ধে হামাসের হামলা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
‘ইয়াশার’ পার্টির প্রধান গাদি আইজেনকোটও ম্যাক্রোঁর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় দাবি করেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ‘মাঠের বাস্তবতা’ থেকে বিচ্ছিন্ন।
এদিকে, পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরাইলি বসতিগুলোর পণ্য ও উৎপাদনের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং বিধিনিষেধ আরোপে কয়েকটি পশ্চিমা দেশের সাথে ফ্রান্সের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তও দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
সূত্র : পার্সটুডে








