মেজর জেনারেল ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-অসম যুদ্ধ-জনবল-রহিম সাফাভি-বাসিজ প্রেসটিভি

 ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মুজতবা খামেনির জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি বলেছেন, সম্ভাব্য আগ্রাসনের অংশ হিসেবে কোনো বিদেশি বাহিনী ইরানের ভূখণ্ডে নামার চেষ্টা করলে তাদের ‘নিশ্চিতভাবেই ধ্বংস’ করা হবে। তিনি বলেন, অসম যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতাসম্পন্ন বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষিত জনবল ইরানের রয়েছে।

ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভি বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জানায়, মঙ্গলবার টেলিভিশনে দেয়া এক বক্তব্যে সাফাভি বলেন, ‘ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ও ভূখণ্ড প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে আমরা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি যে, আল্লাহ না করুন, বিদেশি সেনারা যদি ইরানের কোথাও নামার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের নিশ্চিতভাবেই ধ্বংস করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘ইরানের অন্তত এক কোটি প্রশিক্ষিত বাসিজ সদস্য রয়েছে। তারা দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা, মোজাইকের মতো বিন্যস্ত কৌশল এবং অসম যুদ্ধের মাধ্যমে দেশের সব অঞ্চল রক্ষা করতে সক্ষম।’

সাফাভি বলেন, ‘জনগণই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শক্তি ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রধান ভিত্তি।’

 বিদেশি বাহিনীর ওপর ‘সমন্বিত নজরদারি’

ইসলামী বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী বা আইআরজিসির সাবেক প্রধান সাফাভি ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় ইরানের ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির’ কথাও তুলে ধরেন। একই সাথে তিনি গোটা অঞ্চলে বিদেশি সামরিক তৎপরতার ওপর ইরানের ব্যাপক নজরদারির কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘সমুদ্র এলাকায়, পারস্য উপসাগরের আকাশসীমা হোক কিংবা ভারত মহাসাগর—আমরা আমাদের রাডার ব্যবস্থা দিয়ে বর্তমানে এ অঞ্চলে থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলো শনাক্ত করি এবং সেগুলো কোথায় অবস্থান করছে তা নির্ধারণ করি।’

 ‘যুদ্ধ ইচ্ছাশক্তির লড়াই’

সাফাভি বলেন, ইরান প্রতিরক্ষামূলক ও পাল্টা—দুই ধরনের অভিযানই চালাতে পারে। যেকোনো যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশের সক্ষমতাকে তিনি সমাজের কার্যকর প্রতিরোধ ক্ষমতা ও কৌশলগত দৃঢ়তার প্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক প্রতিরোধ ক্ষমতা ইরানের চেয়ে বেশি কি না। ইরানেরটাই নিশ্চিতভাবে বেশি। যুদ্ধ হলো ইচ্ছাশক্তির লড়াই।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইরান তার লক্ষ্য সম্পর্কে জানে এবং নিজেদের, জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষা করতে চায়।’

হরমুজ প্রণালী নিয়েও কথা বলেন সাফাভি। তিনি জানান, প্রণালীটি আবার খুলে দেয়া নির্ভর করছে কয়েকটি বিষয়ের ওপর, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ নৌ অবরোধ প্রত্যাহারও রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মার্কিন সামরিক চাপ দিয়ে হরমুজ প্রণালী খুলবে না। এর ব্যবস্থা করতে পারে ইরান ও ওমান। ওমানিদের সাথে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। যদিও প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র তা ঠেকাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ইরানের শর্ত মেনে নেয়ার ওপরই হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিষয়টি নির্ভর করছে।’

আঞ্চলিক নিরাপত্তা

সাফাভি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ ছাড়া আঞ্চলিক দেশগুলোকে সাথে নিয়ে পারস্য উপসাগরে একটি নিরাপত্তা কাঠামো প্রতিষ্ঠা করাই ইরানের বৃহত্তর লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘ইরানি জনগণের জন্য হুমকি স্থায়ীভাবে দূর করা এবং অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে মিলে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি ছাড়া পারস্য উপসাগরে স্থায়ী নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়ন প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য।’

তিনি আরো বলেন, আরব দেশগুলোর ভূখণ্ড সম্প্রসারণ কিংবা সেখানে সরকার পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছা ইরানের নেই। একই সাথে তিনি এমন যৌথ আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রস্তাব দেন, যা আঞ্চলিক দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইসরাইলি শাসনের আগ্রাসনও প্রতিহত করতে পারবে।