হাউছি-অগ্রযাত্রা-ডোনাল্ড ট্রাম্প-সৌদি আরব-ইরান
হাউছি যোদ্ধাদের ফাইল ছবি সংগৃহীত

ইরান-সমর্থিত হাউছি যোদ্ধারা সোমবার ইয়েমেনের কৌশলগত পাহাড়ি এলাকা দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। এর মাধ্যমে লোহিত সাগরের উপকূলকে সৌদি আরব-সমর্থিত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা দক্ষিণাঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চায় তারা। এর মধ্যেই খবর এসেছে, শেষ মুহূর্তে হাউছিদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জানায়, চলতি মাসে হাউছিদের দ্রুত অগ্রযাত্রায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন একটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরো বেড়েছে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইয়েমেনে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্ত করার জন্য বারবার আহ্বান জানালেও ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত তাতে সাড়া দেয়নি। শনিবার হাউছিরা জানায়, তারা রিয়াদে হামলা চালিয়েছে। এরপর বিমানবন্দরের কাছে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। সংঘাত শুরুর পর সৌদি রাজধানীতে এটাই প্রথম হামলা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সৌদি আরব এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজের নতুন করে অনুরোধের পর রোববার ট্রাম্প প্রশাসন হাউছিদের ওপর বিমান হামলার প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ট্রাম্প হামলা বন্ধের নির্দেশ দেন। তখনও মার্কিন সেনারা বিমানে বোমা তোলার কাজ করছিল। তবে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এ খবর যাচাই করতে পারেনি। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডও সাড়া দেয়নি।

পাহাড়ি এলাকায় তীব্র লড়াই

২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের রাজধানী নিয়ন্ত্রণ করছে হাউছিরা। চলতি মাসে দ্রুত অগ্রযাত্রার মাধ্যমে তারা লোহিত সাগরের উপকূলও দখল করে নেয়। এতে সৌদি আরব-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারের বাহিনী পিছু হটে। ওই সরকার দক্ষিণাঞ্চল থেকে কার্যক্রম চালায়।

হাউছিদের দাবি, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরব তাদের পাহাড়ি অবস্থানে শত শত বিমান হামলা চালিয়েছে। কিন্তু আকাশে সৌদি বাহিনীর বড় সুবিধা থাকা সত্ত্বেও হাউছিদের অগ্রযাত্রা থামানো যায়নি। সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীও একের পর এক এলাকা ছেড়ে সরে গেছে।

জাতিসঙ্ঘের হিসাবে, নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাতে প্রায় ৭০০ মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছে। ইয়েমেনের ভেতরেই ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। আরো কয়েক হাজার মানুষ নৌকায় করে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে আফ্রিকায় গেছে।

রয়টার্সকে ইয়েমেনের পাঁচ সামরিক সূত্র জানিয়েছে, হাউছিরা এখন তাইজ ও লাহিজ প্রদেশের কাহবুব পর্বতমালা নামে পরিচিত কৌশলগত উচ্চভূমি দখলের চেষ্টা করছে। এই পাহাড়গুলো লোহিত সাগরের উপকূলকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা দক্ষিণাঞ্চল থেকে আলাদা করেছে।

তাইজ প্রদেশের দুর্গম আল-ওয়াজিয়াহ জেলার উপকণ্ঠ এবং ভারত মহাসাগরীয় উপকূলের রাস আল-আরা এলাকায় লড়াই বেশি হচ্ছে। হাউছিরা গত সপ্তাহে লোহিত সাগরের মুখের এলাকা দখল করেছে। ওই এলাকা থেকে দক্ষিণে সরকারের ঘাঁটি এডেন।

সূত্রগুলো বলছে, পাহাড়ি উচ্চভূমি দখল করে হাউছিরা বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছে নিজেদের বাহিনীর পেছনের অংশ নিরাপদ করতে চায়। এতে নতুন ফ্রন্ট খোলার সুযোগও তৈরি হবে। এতে লোহিত সাগরের ধুবাব ও প্রণালির পেরিম দ্বীপে অগ্রযাত্রার সময় দখল করা অবস্থানগুলোও নিরাপদ করা যাবে।