সেনাবাহিনীর যানবাহন
ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর যানবাহন সংগৃহীত ছবি

ইহুদিদের পবিত্র ধর্মীয় উৎসব ইয়োম কিপুর শুরুর আগের দিন রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) অধিকৃত পশ্চিম তীরে এক ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী গুলিতে নিহত হয়েছেন। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হামলাকারীকে আটক করা হয়েছে।

এছাড়া পশ্চিম তীরে গাড়ি দিয়ে হামলা চালানোর একটি চেষ্টার কথাও জানিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। ওই ঘটনায় হামলাকারী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে তারা।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই গুলির ঘটনাকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইহুদিদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ইয়োম কিপুর শুরুর ঠিক আগে এ হামলা চালানো হয়েছে। 

মধ্য ইসরাইলের পেতাহ টিকভা শহরের বেইলিনসন হাসপাতাল জানিয়েছে, প্রথম হামলায় আহত ইসরাইলি নাগরিক মারা গেছেন। রামাল্লার উত্তরে ইসরাইলি বসতি নেভে তজুফের কাছে ওই হামলা চালানো হয়েছিল।

পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের প্রধান প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইয়েশা কাউন্সিলের প্রধান ইসরাইল গান্টজ জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তি ওই বসতির একজন বাসিন্দা ছিলেন।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আইডিএফের সেনারা গুলির হামলা চালানো সন্ত্রাসীকে আটক করেছে।’ 

সেনারা তাকে একটি হাসপাতালে খুঁজে পায়। ফিলিস্তিনি সূত্র জানিয়েছে, হাসপাতালটি রামাল্লা শহরে অবস্থিত।

সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রামাল্লার কাছে মধ্য পশ্চিম তীরে হামলার ঘটনাস্থলেই সন্দেহভাজন হামলাকারীকে একঁন সেনা গুলি করে আহত করেছিল।

ইসরাবইলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির হামলাকারীকে সম্প্রতি অনুমোদিত মৃত্যুদণ্ড আইনের আওতায় প্রথম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি করার দাবি জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন। পোস্টে হাসপাতালের একটি কক্ষে ইসরাইলি সেনাদের ঘেরাও করা এক ব্যক্তির ছবিও ছিল।

নতুন আইন অনুযায়ী, পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় ‘সন্ত্রাসবাদ’ আইনে দোষী সাব্যস্ত হলে সাধারণভাবে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিক, যাদের ‘ইসরাইলি আরব’ও বলা হয়, তাদের ক্ষেত্রেও মৃত্যুদণ্ড দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

রোববার হামলার ঘটনাস্থলে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামির বলেন, সামরিক বাহিনী ‘সর্বোচ্চ সতর্কতায়’ রয়েছে এবং সব এলাকায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এএফপির সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন, পশ্চিম তীরের ওই এলাকায় অনেকগুলো চেকপয়েন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিছু চেকপয়েন্টে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল।

জামির বলেন, ‘আমরা গ্রামটিতে অবরোধ আরোপ করব এবং তদন্ত চালাব। এর মাধ্যমে হামলাকারীকে যারা সহায়তা করেছে, তাদের প্রত্যেকের কাছে আমরা পৌঁছাব।’

নিরাপত্তার উদ্বেগে রামাল্লা এলাকার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কথা বিবেচনা করে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের শিক্ষা মন্ত্রণালয় রোববার রাতে ঘোষণা দিয়েছে যে, সোমবার ওই এলাকার শিক্ষার্থীদের ক্লাস হবে না।

সূত্র : বাসস