সিরিয়ার আলেপ্পোয় সেনা ঘাঁটিতে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ
একটি অস্ত্রাগারে বিস্ফোরণের পর ধোঁয়া উঠতে দেখা যাচ্ছে সংগৃহীত

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোর কাছে একটি সেনা ঘাঁটিতে সোমবার ভোরে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর পরপরই সেখানে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা সানা জানিয়েছে, আল-এইস শহরের আশপাশে অবস্থিত একটি সিরীয় সেনা স্থাপনায় বিস্ফোরণ ঘটে। তবে বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল আল-ইখবারিয়াকে আলেপ্পোর সিভিল ডিফেন্সের অপারেশন প্রধান ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, সেখানে এখনো ধারাবাহিকভাবে বিস্ফোরণ ঘটছে। এ কারণে জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারছে না। 

তিনি সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা থেকে দূরে থাকার সতর্ক করেছেন।

আলেপ্পোর হামদানিয়েহ এলাকার এক বাসিন্দা জানান, তিনি একটি ‘প্রচণ্ড বিস্ফোরণের’ শব্দ শুনেছেন। এরপর ছাদে উঠে দূরে বড় ধরনের আগুনের শিখা দেখতে পান।

আলেপ্পোর গভর্নর আজ্জাম আল-ঘারিব পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাসিন্দাদের বাড়ি থেকে বের না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। 

তিনি জানান, হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবার দলগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

সানার বরাতে আলেপ্পোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমান্ড জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য বিস্ফোরণের স্থানটির দিকে যাওয়া সড়কগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

সিরিয়ায় এ ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধের পর দেশটি এখনো অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। 

২০২৪ সালের শেষ দিকে দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে।

এর আগে গত শুক্রবার পূর্বাঞ্চলীয় দেইর এজ-জোর প্রদেশের একটি সামরিক স্থাপনায় অজ্ঞাত কারণে বিস্ফোরণে ১১ জন নিহত হন।

চলতি মাসের শুরুতে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন একটি অস্ত্রভাণ্ডারে বিস্ফোরণে ১৪ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়।

এরও এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময় আগে একই এলাকায় গোলাবারুদ বহনকারী একটি যান বিস্ফোরিত হলে পাঁচজন নিহত হন।
সূত্র : বাসস