
ফুডপ্যান্ডা বাংলাদেশের পাঁচ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে চলমান ফৌজদারি মামলাগুলোর কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একইসাথে মামলাগুলোর বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
অন্যদিকে, সরবরাহসংক্রান্ত বিরোধের বাদি মো: শিহাব মাহমুদ বশিরকে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থতার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি মামলায় ছয় মাসের কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ঢাকার একটি আদালত। মামলাটি ফুডপ্যান্ডার একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের করা।
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি মো: আশিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বশিরের করা মামলাগুলোর বিরুদ্ধে দায়ের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। বশির ডেলিভারি হিরো স্টোরস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের সাবেক সরবরাহকারী। প্রতিষ্ঠানটি ফুডপ্যান্ডা বাংলাদেশের সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্যান্ডামার্ট পরিচালনা করে।
হাইকোর্টের আদেশের আগে গত সপ্তাহে ফুডপ্যান্ডার ওই পাঁচ কর্মকর্তা ঢাকার সিএমএম আদালত থেকে নিয়মিত জামিন পান। হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে চলমান মামলাগুলোর কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
গত ১১ অক্টোবর ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম আদালত ডেলিভারি হিরো স্টোরস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের করা তিনটি চেক ডিজঅনার মামলার একটিতে বশিরকে এ দণ্ড দেন। হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১ আইনে মামলাগুলো করা হয়েছিল।
২০২২ সালে বশিরের মালিকানাধীন আইপিএলই ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক ডেলিভারি হিরো স্টোরস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের মাধ্যমে প্যান্ডামার্টে পণ্য সরবরাহ শুরু করে। পরে পণ্য সরবরাহ ও চাহিদা পূরণে সমস্যা দেখা দেয়ায় প্রতিষ্ঠানটি ওই সরবরাহকারীর সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্কের ইতি টানে। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে বকেয়া পাওনা নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়।
দুই পক্ষের মধ্যে পাওনা নিষ্পত্তির বিষয়ে সমঝোতা হয়। ডেলিভারি হিরো পাওনার একটি অংশ মওকুফ করতে সম্মত হলে বশির অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধের জন্য তিনটি চেক দেন। তবে, পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকগুলো প্রত্যাখ্যাত হয়। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর ২০২৫ সালে বশিরের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক চেক ডিজঅনার মামলা করে ডেলিভারি হিরো স্টোরস (বাংলাদেশ) লিমিটেড। ওই তিন মামলার মধ্যে দুটি এখনো বিচারাধীন।
এরপর ২০২৫ সালে ফুডপ্যান্ডা বাংলাদেশের পাঁচ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চারটি ফৌজদারি মামলা করেন বশির। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আম্বারীন রেজা এবং জুবায়ের বিএ সিদ্দিকী রয়েছেন। মামলাগুলোতে প্রতারণা, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং পণ্য ফেরত নেয়া বা ‘রিটার্ন টু ভেন্ডর’ (আরটিভি) সমন্বয়সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়।
ফুডপ্যান্ডার মতে, বকেয়া পাওনা আদায়ে ডেলিভারি হিরো আইনি পদক্ষেপ নেয়ার পর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এসব ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে, যা বাণিজ্যিক বিরোধের জেরে নেয়া প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বিরোধটি মূলত ব্যবসায়িক লেনদেন, বকেয়া পাওনা ও হিসাব সমন্বয়সংক্রান্ত।
কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করে ফুডপ্যান্ডা বাংলাদেশ। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রুল জারি করেন এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর কার্যক্রম স্থগিত করেন। তবে রুলের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








