
রাতের অন্ধকারে ঘুম থেকে ডেকে নেয়া হয়েছিল আলী আকবর হাওলাদারকে। পরদিন ভোরে বাড়ির পাশের ধানক্ষেতে তাকে হাত-পা দড়ি দিয়ে বাঁধা, চোখ-মুখ গামছায় আটকানো এবং রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।
ঘটনাটি ঘটে ২০১০ সালের ৩ মে। দীর্ঘ ১৬ বছর পর বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সেই হত্যা মামলার রায় হলো। নিজের বাবা আলী আকবরকে হত্যার দায়ে ছেলে পলাশ হাওলাদারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বরিশালের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালত। একই সাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।
রায় ঘোষণার সময় পলাশ পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। একই মামলার অপর দুই আসামি কাওসার হাওলাদার ও মিজান হাওলাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দিয়েছে আদালত। বিচারক মো: সোহেল আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্র ও মামলার এজাহার অনুযায়ী, বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পরমানন্দ সাহা গ্রামের আলী আকবর পেশায় দিনমজুর ছিলেন। ছেলে পলাশের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। পলাশ তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে নিয়ে আসতে চাইলে আলী আকবর বাধা দিতেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই কথা কাটাকাটি হতো।
এর মধ্যে পলাশের প্রথম স্ত্রী জ্যোৎস্না আক্তার ভরণপোষণ না দেয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় পলাশ কিছুদিন কারাগারেও ছিলেন। মামলাটির পেছনে বাবার ইন্ধন রয়েছে—এমন ধারণা থেকে আলী আকবরের ওপর পলাশ ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
২০১০ সালের ২ মে সন্ধ্যার পর বাবা-ছেলের মধ্যে তুমুল বাগবিতণ্ডা হয়। ওই রাতেই পলাশসহ কয়েকজন আলী আকবরকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরদিন ভোরে প্রতিবেশী তাকে ধানখেতে দেখতে পান।
আলী আকবরকে প্রথমে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পরে নিহতের ছেলে শহিদ হাওলাদার থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ২৫ মার্চ পলাশসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এরপর সাক্ষ্য গ্রহণসহ দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে রায় ঘোষণা করা হয়।
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








