বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক । সংগৃহীত

বিদেশী এয়ারলাইনসের কাছ থেকে এয়ার টিকিট কেনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কার্ডে অর্থ পরিশোধের সুযোগ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন ব্যবস্থায় যেসব বিদেশী এয়ারলাইনসের টিকিট বিক্রির অর্থ বাংলাদেশের বাইরে আন্তর্জাতিক অ্যাকোয়ারিং ও পেমেন্ট সেটেলমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়, সেগুলোর ক্ষেত্রেও এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ-১ (এফইপিডি-১) সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জারিকৃত ৩৯ নম্বর সার্কুলারের মাধ্যমে এই সুবিধা চালু করে যা ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বরে জারিকৃত ৪৭ নম্বর এফইপিডি সার্কুলারের বর্ধিত রূপ।

নতুন এই ব্যবস্থার অধীনে, বাংলাদেশে পরিচালিত বিদেশী এয়ারলাইনসগুলো বিমান টিকিটের বিপরীতে আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবে, যা দেশের বাইরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সেটেলমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

এ সুবিধা শুধু বিদেশী এয়ারলাইনসের জন্য প্রযোজ্য হবে। বাংলাদেশী এয়ারলাইনসগুলো বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে বিদ্যমান স্থানীয় সেটেলমেন্ট ও দেশীয় অ্যাকোয়ারিং ব্যবস্থার আওতায় থাকবে।

সার্কুলারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলো, এ সুবিধার আওতায় কেনা টিকিটের মূল্য ব্যক্তির বার্ষিক ভ্রমণসীমার বাইরে বিবেচিত হবে। এসব টিকিট কেনার অর্থ ব্যক্তির প্রচলিত বার্ষিক ভ্রমণ কোটার সাথে সমন্বয় করা হবে না।

এই লেনদেনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক টিকিট কেনার পর কার্ড রিওপেন বা রিপ্রভিশনিং/রিপ্লেনিশমেন্টের নিয়ম নির্ধারণ করে দিয়েছে। অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো কার্ডের স্টেটমেন্টের সাথে টিকিট কেনার বিষয়টি যাচাই করে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত সঠিক মার্চেন্ট ক্যাটাগরি কোডের (এমসিসি) আওতায় লেনদেন হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করার পরেই আন্তর্জাতিক কার্ডের সমপরিমাণ অর্থ পুনরায় সমন্বয়ের সুযোগ দেবে।

সুবিধাটি যেসব অনুমোদিত বিদেশী এয়ারলাইনসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে সেগুলো হলো এয়ার ইন্ডিয়া, ক্যাথে প্যাসিফিক এয়ারওয়েজ, চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনস, চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্স, এমিরেটস, ফ্লাইদুবাই, গালফ এয়ার, কুয়েত এয়ারওয়েজ, মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস, ওমান এয়ার, কাতার এয়ারওয়েজ, সৌদি আরাবিয়ান এয়ারলাইনস (সাউদিয়া), সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স, শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনস, থাই এয়ারওয়েজ ইন্টারন্যাশনাল, টার্কিশ এয়ারলাইনস এবং এয়ার অ্যারাবিয়া।

সার্কুলার অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে এই ব্যবস্থার অধীনে টিকিট ক্রয়ের সমস্ত তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রানজেকশন মনিটরিং (টিএম) মডিউলের মাধ্যমে রিপোর্ট করতে হবে।

২০২৫ সালের ৪৭ নম্বর সার্কুলারের যেসব বিধান বিশেষভাবে সংশোধন করা হয়নি, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, যাচাইকরণ ও নিয়মানুগ বাধ্যবাধকতাসহ অন্যান্য নিয়মাবলি আগের মতোই কার্যকর রাখার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এছাড়া, যেসব বিদেশী এয়ারলাইনস অফশোর সেটেলমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে টিকিটের অর্থ গ্রহণ করবে, তাদের সেই আয় নিজ দেশে রেমিট্যান্স হিসেবে পাঠানোর হিসাব নির্ধারণের সময় সমন্বয় করতে হবে। অর্থাৎ, যে অর্থ দেশের বাইরেই নিষ্পত্তি বা পরিশোধ করা হয়েছে, তা তারা নিয়মিত মুনাফা হিসেবে পাঠাতে পারবে না।

এই সমন্বয় কার্যক্রমটি ২০২৬ সালের ৭ মে জারিকৃত এফইপিডি-১ সার্কুলার নম্বর ০৮-এর পার্ট-বি অনুযায়ী নিরীক্ষা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা সাপেক্ষে করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত ডিলারগুলোকে তাদের গ্রাহক এবং কর্পোরেট ক্লায়েন্টদের এই নতুন ব্যবস্থার বিষয়ে অবহিত করার এবং প্রযোজ্য বৈদেশিক মুদ্রা নীতিমালা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে। বাসস